আসন্ন নির্বাচনী উত্তাপের মাঝে ফরিদপুরে এক রুদ্ধশ্বাস অভিযানে পানির নিচ থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। যৌথ অভিযান শেষে মেজর সোহেল আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, উদ্ধার এই আধুনিক ও দেশীয় অস্ত্রগুলো আসন্ন নির্বাচনে বড় ধরনের নাশকতা কিংবা সহিংসতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়ে থাকতে পারে বলে তারা প্রবলভাবে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।
শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর আখ সেন্টারের সামনের একটি পুকুরে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এই অভিযানে পুকুরের তল থেকে চারটি প্যাকেট উদ্ধার করেন ডুবুরিরা, যা খুলতেই দেখা যায় ভয়ংকর সব মারণাস্ত্র।
উদ্ধার অস্ত্রের তালিকায় রয়েছে চারটি অত্যাধুনিক পিস্তল, যার একটির গায়ে খোদাই করে লেখা রয়েছে ‘মেড ইন ইউএসএ’। এছাড়া ছয়টি ম্যাগজিন, ১৬ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, দুটি শটগান, দুই রাউন্ড কার্তুজসহ বিপুল সংখ্যক ধারালো দেশীয় অস্ত্র রয়েছে।
এলাকাবাসীর কৌতূহলী চোখের সামনে দিনভর চলা এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন ফরিদপুর সদর সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর সোহেল আহমেদ। তিনি জানান, অস্ত্রগুলো পুকুরের পানির নিচে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। অভিযান সফল করতে প্রথমে শক্তিশালী সেচ মেশিন দিয়ে পুকুরের একটি নির্দিষ্ট অংশের পানি নিষ্কাশন করা হয়। এরপর সেনাসদস্যরা জাল টেনে এবং দক্ষ ডুবুরি নামিয়ে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর একে একে চারটি প্যাকেট উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
বিস্ময়কর তথ্য হলো, উদ্ধার হওয়া প্রতিটি আগ্নেয়াস্ত্রই বর্তমানে সম্পূর্ণ সচল অবস্থায় রয়েছে। এই মারণাস্ত্রগুলো সেখানে আরও আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সন্ধ্যা পর্যন্ত "চিরুনি" অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও যৌথ বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, এই বিশাল অস্ত্র ভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই সময়োচিত পদক্ষেপের ফলে সম্ভবত একটি বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে জব্দ অস্ত্রগুলো পুলিশি হেফাজতে রয়েছে এবং এই অস্ত্র চালানের নেপথ্যে কারা জড়িত, তাদের খুঁজে বের করতে এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।