ভ্রাম্যমাণ ভিক্ষুকের বিকাশ-নগদ নম্বর ব্যবহার করে অভিনব কৌশলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। এমন অভিযোগে সিআইডি টিম প্রতারক এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সিআইডির মালিবাগ প্রধান কার্যালয় থেকে বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রতারক দম্পতির বাড়িতে ভ্রাম্যমাণ ভিক্ষুক ভিক্ষা করতে গেলে তাদের সরকারি রেশন ও অন্যান্য ভাতার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের নিবন্ধিত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) একাউন্ট (বিকাশ, নগদ ও রকেট ইত্যাদি) সিম কার্ড নম্বর রেখেও দিত।
এরপর ওই সিম কার্ড দিয়েই ফোন করা হতো প্রতারণার ফাঁদে ফেলা সম্ভব এমন ব্যক্তির কাছে। ভূক্তভোগীকে জানানো হতো তার মা, মেয়ে কিংবা স্ত্রী দুর্ঘটনার কবলে পড়ে আশংকাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছে। তার অবস্থা খুব খারাপ। এরপর টাকা পাঠানোর জন্য আগে থেকে সংগ্রহ করা ভিক্ষুকের এমএফএস একাউণ্ট নম্বর দেয়া হতো। টাকা পাওয়ার পরই সিম ও মোবাইল নষ্ট করে ফেলা হতো। ফলে প্রতারক থেকে যেত অধরা।
এমনই এক প্রতারক দম্পতিকে সিআইডির চাঁপাইনবাবগঞ্জের টিম, এলআইসি সিআইডির এনালাইসিস ও প্রযুক্তির সহায়তায় গত সোমবার রাজশাহী মেট্রোপলিটনের পবা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্বামী ও স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সুলতানা খাতুন ও তার স্বামী মোবারক হোসেন। তারা রাজশাহীর চন্দিমা থানার বোনগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। তাদের কাছ থেকে প্রতারণার নগদ ২১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, অপরাধ কাজে ব্যবহৃত ৪টি মোবাইল ফোন সেট ও ৪টি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, মামলার বাদির সুইডেন প্রবাসী বোনের পরিচয় দিয়ে প্রতারকচক্র মামলার বাদির মাকে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে জানায়, সে সুইডেন থেকে দেশে আসছে। এরপর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। তার কাছে টাকা পয়সা নেই।
চিকিৎসা খরচের টাকার জন্য প্রতারকচক্র একটি রকেট একাউন্ট দেয়। বাদির মা সরল বিশ্বাসে বিভিন্ন সময় ও বিভিন্ন তারিখে মোট ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৯৬০ টাকা পাঠান।
পরবর্তীকে ভুক্তভোগী মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হন।এরপর গেল বছরে গোমস্তাপুর থানায় জিডি করেন। যা পরবর্তীতে নিয়মিত মামলা থানায় দায়ের করেন।
গ্রেপ্তারকৃত প্রতারক দম্পতি সুলতানা খাতুন ও তার স্বামী মোবারক হোসেনের বাড়িতে কোনো ভ্রাম্যমাণ ভিক্ষুক ভিক্ষা করতে গেলে তাদের সরকারি রেশন, ভাতাসহ অন্যান্য সরকারি সুযোগ সুবিধা পাইয়ে দেয়ার লোভ দেখিয়ে ভিক্ষুকের নিজের নামের নিবন্ধিত সিম কার্ড ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের একাউন্ট (বিকাশ,নগদ ও রেকট ইত্যাদি) প্রতারকদের কাছে জমা রাখতে হবে বলে জানান।
আর প্রতারক দম্পতি ভিক্ষুক সিম কার্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন ভুক্তভোগী ব্যক্তির কাছে ফোন করে তাদের আত্মীয়-স্বজন হাসপাতালে ভর্তি, মুমুর্ষু অবস্থায় আছে, চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অর্থকড়ি এসব বলে বিভ্রান্ত করতো। তাৎক্ষণিক কোনো টাকা না পাঠালে রোগী মারাও যেতে পারে বলে জিম্মি করে ফেলতো।মোবারক হোসেন পুরুষ কণ্ঠে ও স্ত্রী সুলতানা খাতুন নারী কণ্ঠে কথা বলত।
সিআইডির মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি যাচাই বাছাই না করে প্রতারকদের মিথ্যা খবরের ভিত্তি আতঙ্কিত হয়ে অনেকেই অর্থ পাঠাতে চাইলে প্রতারক চক্র ভিক্ষুকের একাউন্ট নম্বর দিত। রোগীর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে রোগী মারাত্মক অসুস্থ বলে এড়িয়ে যেত।এই চক্রের হাতে আরও অনেকেই প্রতারিত হয়েছে কিনা তদন্ত চলছে। সিআইডির চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ইউনিট মামলার তদন্ত করছে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
নগর-মহানগর: গ্যাস সংকট নিরসনে তিতাসের সাথে ইশরাকের বৈঠক
অর্থ-বাণিজ্য: অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল প্রায় ৩৯ লাখ