image

ট্রাইব্যুনালে ‘বাণিজ্য’ ও ‘রাজসাক্ষী নাটক’

এবার প্রসিকিউটর তামিম বললেন ‘ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা’

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ‘বাণিজ্য’ ও ‘রাজসাক্ষী নাটকের’ যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা ‘ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা’ বলে দাবি করেছেন প্রসিকিউটর (প্রশাসন) গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম।

সদ্য বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ও তামীমের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছেন প্রসিকিউশন টিমেরই এক সদস্য বিএম সুলতান মাহমুদ।

তাজুল ইসলাম মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সেসব অভিযোগকে ‘সর্বোতভাবে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। আর একদিন পর প্রসিকিউটর (প্রশাসন) গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীমও এক বিবৃতিতে তাঁদেরই এক সহকর্মীর তোলা অভিযোগগুলো উড়িয়ে দিয়েছেন।

গত সোমবার সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে রাজসাক্ষী বানানো নিয়ে ‘ট্রাইব্যুনালে সেটলিং বাণিজ্য ও রাজসাক্ষী নাটক: কেন সরতে হচ্ছে তাজুল ইসলামকে?’ শিরোনামে নিজের ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট করেন প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কাজী মোস্তাফিজুর রহমান আহাদ। ওই পোস্টে ‘প্রসিকিউশন টিমের একটি প্রভাবশালী অংশ গোপন সমঝোতা বা ‘বাণিজ্যে লিপ্ত হয়েছে’ বলে অভিযোগ করা হয়। তার ওই পোস্টের বক্তব্যের সঙ্গে সমর্থন জানিয়ে এবং আরও কিছু তথ্য তুলে ধরে মন্তব্য করেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমের অন্যতম সদস্য বিএম সুলতান মাহমুদ।

যা বললেন তামীম

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রসিকিউটর তামিম একটি লিখিত বিবৃতি পাঠান। বিবৃতিতে তিনি এসব অভিযোগকে ‘অসত্য, বানোয়াট, বিভ্রান্তিপূর্ণ ও কাল্পনিক’ বলে উল্লেখ করেন। প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ ‘ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা’ থেকে এই তথ্য ছড়াচ্ছেন বলে তিনি দাবি করেন।

তামিম বলেন, “আমি দৃঢ়তার সাথে বলছি যে, আমার বিরুদ্ধে আনীত কোনো অভিযোগ কেউ প্রমাণ করতে পারবে না। চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে আমাদের প্রসিকিউশন টিম কর্তৃক পরিচালিত জুলাই গণহত্যা ও গুমের বিচার প্রক্রিয়া দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।”

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া ‘প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে’ একটি মহল ‘পরিকল্পিতভাবে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে’ বলেও বিবৃতিতে দাবি করেন এই প্রসিকিউটর।

কী অভিযোগ

প্রসিকিউশন টিমের সদস্য সুলতান মাহমুদ বলেন, “গত বছর নভেম্বরের শেষ দিকে আশুলিয়ার লাশ পোড়ানো মামলার আসামি আফজালের বউ সন্ধ্যার দিকে ভারী ব্যাগ নিয়ে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিমের রুমে প্রবেশ করে। বিষয়টি আমরা দেখার পরে সঙ্গে সঙ্গে তাজুল ইসলামের রুমে গিয়ে তাকে জানাই। এই ঘটনায় কোনও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বরং উল্টো আমাদের বকাঝকা করে। তামিম তখন সবার সামনে স্বীকার করেছিলো যে, আফজালের বউ তার রুমে এসেছিল। চিফ প্রসিকিউটর শুধু জিজ্ঞেস করেছিলেন আসামির বউ কেন তার রুমে গিয়েছিল। শুধু এই জিজ্ঞাসা করা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল। পরবর্তীতে সেই আফজালকে রাজসাক্ষী করা হলো। চূড়ান্ত বিচারে তাকে খালাস দেয়া হলো।”

সুলতান মাহমুদ বলেন, “চানখারপুলের মামলায় এসআই আশরাফুল গুলি করার নির্দেশনা দিচ্ছে এরকম ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পরও তাকে আসামি না করে সাক্ষী করা হয়েছে। সেই ভিডিও আমার কাছে আছে। রংপুরের আবু সাঈদের মামলায় এসি ইমরানকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এই ইমরানের নাম কয়েকজন সাক্ষীরা আদালতে এসে বলেছে। আওয়ামী লীগের নেতাদের শেখ হাসিনার মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা যেতো। কিন্তু সেটা না করে মামলা প্রতি ২-৪ জনকে আসামি করে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করে জনগণকে ধোকা দেয়া হয়েছে। এগুলো চব্বিশের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি।”

‘অপরাধ ও দুর্নীতি’ : আরও খবর

সম্প্রতি