সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একইসঙ্গে তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও মেয়ের সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ দেওয়ারও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
গোপালগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার সংস্থাটির পক্ষ থেকে এই মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন। কমিশনের অনুসন্ধানে শেখ সেলিমের নামে ১৩ কোটি ৫৯ লাখ ১৮ হাজার ৬০ টাকার অবৈধ সম্পদের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
দুদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তিনি এই বিশাল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন যা তার বৈধ আয়ের উৎসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছিলো দুদক।
শেখ সেলিমের পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদের দিকেও নজর দিয়েছে দুর্নীতি বিরোধী এই সংস্থাটি। সন্দেহ করা হচ্ছে, নিজের নামের বাইরেও পরিবারের সদস্যদের নামে তিনি বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ে তুলেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শেখ সেলিমের স্ত্রী ফাতেমা সেলিম, দুই ছেলে শেখ ফজলে ফাহিম ও শেখ ফজলে নাঈম এবং মেয়ে শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়ার নামে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের সম্পদের সঠিক হিসাব দাখিল করতে হবে। যদি কেউ তথ্য গোপন করেন বা মিথ্যা তথ্য প্রদান করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে শেখ সেলিমের পরিবারের সদস্যদের সম্পদের উৎস এবং পরিধি আরও গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সারাদেশ: সাটুরিয়ায় ৪০ খামারির মাঝে ভেড়া বিতরণ