image

ইবিএল চেয়ারম্যান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে দুদক

আট হাজার কোটি টাকা পাচার ও জাহাজ আমদানির নামে অর্থ আত্মসাৎ

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি এর (ইবিএল) চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা আট হাজার কোটি টাকা পাচার ও জাহাজ আমদানির নামে অর্থ সরানোর অভিযোগের অনুসন্ধান আরও জোরদার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সম্প্রতি বেসরকারি খাতের সিটি ব্যাংক পিএলসি এর কাছে শওকত আলী চৌধুরী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব ও ঋণের যাবতীয় নথিপত্র তলব করা হয়েছে।

দুদকের উপ-পরিচালক ও অনুসন্ধান টিমের প্রধান মো. মুস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আগামী ১০ মার্চের মধ্যে এ সব তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে জাহাজ ভাঙা শিল্পের আড়ালে বড় ধরনের জালিয়াতির তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশ থেকে জাহাজ আমদানির নামে এলসি খোলা হলেও বাস্তবে কোনো জাহাজ দেশে আসেনি, অথচ কয়েক হাজার কোটি টাকা নিয়মবহির্ভূতভাবে বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

বিশেষ করে “এস এন করপোরেশন” নামক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমদানির নামে এই জালিয়াতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে কমিশন। এ লক্ষে সিটি ব্যাংকের কাছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের এলসি কপি, বিল অব এন্ট্রি এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্রসহ বিভিন্ন নথিপত্র চাওয়া হয়েছে।

শুধু অর্থ পাচারই নয়, শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব গোপনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগও রয়েছে। দুদকের হাতে ইতোমধ্যে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের পাসপোর্টের কপি এসেছে।

বাংলাদেশের ব্যাংকিং বিধিমালা অনুযায়ী তথ্য গোপন করে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা অবস্থায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে থাকা এবং এই সুযোগে বিদেশে বিভিন্ন “শেল কোম্পানি” বা নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানে সম্পদ গড়ার বিষয়টি এখন তদন্তের আওতায়।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে অন্তত আট হাজার কোটি টাকার রহস্যজনক লেনদেন করেছেন।

দুদকের চিঠিতে শওকত আলী চৌধুরী ছাড়াও তাঁর স্ত্রী তাসমিয়া আম্বরীন, মেয়ে জারা নামরীন এবং ছেলে জারান আলী চৌধুরীর নামে থাকা সব ধরনের হিসাবের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাংক হিসাব খোলার ফর্ম, লেনদেনের বিবরণী, এনআইডি এবং পাসপোর্টের কপি। এ ছাড়া তাঁদের ব্যক্তিগত বা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া ঋণের আবেদন ও অনুমোদনের কপিও তলব করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, শওকত আলী চৌধুরী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলারও এজাহারভুক্ত আসামি।

দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাহাজ না এনেই টাকা বিদেশে চলে যাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। সিটি ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে এবং জালিয়াতি ও পাচারের প্রমাণ মিললে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করা হবে।

সিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তারা প্রয়োজনীয় সব তথ্য সরবরাহ করবে। তবে এ সব অভিযোগের বিষয়ে শওকত আলী চৌধুরীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‘অপরাধ ও দুর্নীতি’ : আরও খবর

সম্প্রতি