গ্রন্থাগার দিবস
সবুজ- শ্যামল- ছায়া সুনিবির, শান্তির গ্রাম। ভোরে পাখির কিচির মিচির। রাতে শিয়ালের হাঁক। আবার পড়ন্ত বিকেলে সুবর্ণখালি নদীর পাড় ধরে হেঁটে চলা। কখনো মাঠ ভরা ফসল, কখনো আবার থৈ থৈ পানি। তার মাঝে পাটখড়ি দিয়ে গড়ে ওঠা এক পাঠাগার, পেছনের কারিগর আতিফ আসাদ। জামালপুরের সরিষাবাড়ির হাসড়া মাজালিয়া গ্রামের চিত্র এটি।
বই প্রেম থেকে পাঠাগার কারিগর
দিনমজুরের ছেলে আতিফের ছোটবেলা থেকেই বই পড়ার প্রতি ঝোঁক। তবে পারিবারিক দৈন্যতায়, পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বই পড়াটা তার জন্য দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছিল। তবে, সকল বাধা কাটিয়ে আতিফ বই প্রেমটি ধরে রেখেছিলো। ২০টি বই নিয়ে নিজেই গড়ে তোলে পাঠাগার। সাইকেলে টুনটুন করতে করতে বই নিয়ে বেরিয়ে পরে বইপ্রেমীদের সন্ধানে। পৌছে দিতে থাকে বই।
মিলন স্মৃতি পাঠাগার
শুরুটা ছিলো ২০১৮ সালে। বই প্রেম যেন একে নেশায় রূপ নেয়। হঠাৎ করেই আতিফের মাথায় পাঠাগার গড়ার কথা আসে। ‘সংবাদ’ ডিজিটাল টিমকে আতিফ জানায়, ‘প্রথমে বারান্দায় পাট শোলা দিয়ে একটা ছোট্র রুম করে ২০টা বই দিয়ে সেখান থেকেই শুরু করলাম। আমি বিশ্বাস করতাম, ভালো কাজ যেহেতু অবশ্যই বই দিয়ে সবাই সহযোগিতা করবে। তারপর আস্তে আস্তে বই আসা শুরু করলো। বই রাখার মতো কোন অবস্থা ছিলো না। বাড়িতে কাঠ ছিলো সেগুলো দিয়ে বাবাকে সাথে নিয়ে একটা ভাঙ্গা সেল্ফ বানালাম। নাম মিলন স্মৃতি পাঠাগার।’
এখন সেই একটি পাটশোলার পাঠাগার সংখ্যায় দাঁড়িয়েছে ২০টিতে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্রাম ভিত্তিক, স্টেশন পাঠাগার এবং শিশুদের জন্য বিশেষ আয়োজনে পাঠাগার।
আতিফ এখন স্বপ্ন দেখে জেলার প্রতিটি গ্রামে, স্কুলে, স্টেশনে পাঠাগার গড়ে তোলার।
আজও শিশুদের জন্য পাঠাগার উদ্বোধন হবে
আজ জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস। আজও আতিফের উদ্যোগে ভিত্তি গড়বে নতুন পাঠাগারের। জেলার দোলভিটা গ্রামের ‘শহীদ কালাম স্মৃতি বিদ্যা নিকেতন’ স্কুলে দুটো পাঠাগার উদ্বোধন করা হবে।
বইপড়ার এ আন্দোলন গ্রাম থেকে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ুক। প্রতিটি গ্রামে গড়ে উঠুক অসংখ্য পাঠাগার, গ্রন্থাগার দিবসে আতিফের প্রত্যাশা। সংবাদ ডিজিটাল টিমকে এমনটাই জানান তিনি। আতিফ বলেন, “বহু দৈন্যতাও বই থেকে দূরে সরাতে পারেনি আমাকে। ভবিষ্যতে পাঠাগারকে জেলা থেকে জেলায় প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন নিয়েই পথ চলছি।”
সারাদেশ: দুপচাঁচিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় যুবক নিহত