আজ রক্তস্নাত ফাল্গুনের সেই অমোঘ দিন, অমর একুশে ফেব্রুয়ারি। ১৯৫২ সালের এই দিনে ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার আর শফিউরের রক্তে। আজ সেই মহান ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্ণ হলো।
রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আজ ভোরের আলো ফোটার আগেই নামবে সর্বস্তরের মানুষের ঢল। হাতে হাতে ফুল আর কণ্ঠে কালজয়ী গান "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি"।
শুধু বাংলাদেশ নয়, আজ বিশ্বের ১৯০টিরও বেশি দেশে এই দিনটি "আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস" হিসেবে পরম শ্রদ্ধায় পালিত হচ্ছে। বাঙালি জাতির এই শোক আর গৌরবের দিনটি আজ সারা বিশ্বের ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার এক অবিনাশী প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকেই তৎকালীন পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি ও ভাষার ওপর আঘাত হানে। ১৯৪৮ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর "উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা" এমন ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয় প্রতিবাদ। সেই প্রতিবাদের চূড়ান্ত বিস্ফোরণ ঘটেছিল ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি (৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮)। শাসকগোষ্ঠীর জারি করা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা যখন রাজপথে নেমে আসে, তখন পুলিশের গুলিতে ঝরে পড়ে অসংখ্য তরুণের প্রাণ। সেই রক্তই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রথম বীজ, যা পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পূর্ণতা পায়।
বাঙালির এই অকুতোভয় লড়াই আজ বিশ্ব দরবারে এক অনন্য স্বীকৃতি পেয়েছে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর ঘোষণার মাধ্যমে। যার ফলে ২১ ফেব্রুয়ারি আজ বিশ্বব্যাপী মাতৃভাষার অধিকার রক্ষার দিন হিসেবে স্বীকৃত।
এবারের একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির জন্য এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
একুশ আজ কেবল একটি তারিখ নয়, এটি বাঙালির মননের বাতিঘর, যা প্রতিনিয়ত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় নিজের ভাষা ও শেকড়ের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা। ভাষার জন্য জীবন দেওয়ার এই বিরল ইতিহাস আজ পৃথিবীর সকল বিপন্ন ভাষাকে টিকিয়ে রাখার প্রেরণা জোগাচ্ছে।
অর্থ-বাণিজ্য: বিনিয়োগ বাড়াতে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি এফআইসিসিআই’র