আখড়া সুরক্ষাসহ ৮ দাবি
দোল পূর্ণিমা উৎসব নির্বিঘ্নে উদ্যাপনসহ ৮ দফা দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে খোলা চিঠি দিয়েছেন লালন ভক্তরা।শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) চিঠিটি প্রকাশিত হয়।চিঠিতে লালন সাধুদের স্বার্থ সংরক্ষণসহ নির্বিঘ্নে দোল পূর্ণিমা উৎসবের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়, ‘আগামী ৩ মার্চ পবিত্র দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে লালনের আখড়াবাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধুসমাজের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানাদি অনুষ্ঠিত হবে। ফকির লালন শাহ্ এর জীবদ্দশায় তিনি এই অনুষ্ঠান পালন করতেন। ধর্ম-বর্ণ-জাতি-গোত্র ভেদ উপেক্ষা করে বিশ্বময় মানবতাবাদী মানুষ এই পূর্ণিমা পালন করে থাকেন। ‘
এই প্রেক্ষিতে চিঠিতে লালন ভক্তরা আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘আমরা লালন সাধুদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও নির্বিঘ্নে দোল পূর্ণিমা উৎসব অনুষ্ঠান পরিচালনার লক্ষ্যে আপনার সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”
লালন ভক্তদের ১৩টি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এ চিঠি দিয়েছেন লালন একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন।চিঠিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে, কুষ্টিয়ার লালন একাডেমী, লালন স্বেচ্ছাসেবক সংস্থা, লালন সেবাসনদ, এসো গড়ি আশার আলো, আয়না মহল, লালন সাহিত্য চর্চ্চা কেন্দ্র, ভাবাশ্রম, বিশ্ব লালন সংঘ; মেহেরপুরের দৌলত শাহ্ ফাউন্ডেশন; ঢাকার জাতীয় সাধু সংসদ, ষোলো আনা বাঙ্গালী; ভাব, আধ্যাত্ম ও বোধি চর্চ্চা কেন্দ্র ও চুয়াঙ্গার পারঘাট আয়না মহল।
লালন ভক্তদের আট দফা দাবি
১. আধ্যাত্মিক স্বাধীনতার নিশ্চয়তা: লালন সাধু ও বাউল সম্প্রদায় যেন সাধুরীতি অনুযায়ী অবাধে তাদের আধ্যাত্মিক সাধনা ও অনুষ্ঠানাদি পরিচালনা ও লালন দর্শন অনুরাগী ভক্তগণ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে স্বাধীনভাবে তার ভাব অনুরাগ প্রকাশ করতে পারেন, সেই স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে সাধুদের মতামত ও অনুমতি সাপেক্ষে স্পষ্ট প্রশাসনিক নির্দেশনা প্রদান করতে হবে।
২. নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারকরণ: পহেলা কার্তিক—লালন তিরোধান দিবস, দোল পূর্ণিমাসহ অন্যান্য সাধুতিথিতে সাধুআশ্রম ও আখড়াভিত্তিক উৎসবগুলোতে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। লালন আখড়াবাড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ মাজারগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজন অনুযায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
৩. আখড়াবাড়ি সুরক্ষা: ছেউড়িয়ায় লালন আখড়াসহ নিবন্ধিত আখড়াগুলোর আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনো ধরনের দখল, হয়রানি বা বাধা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে কিছু প্রতিষ্ঠানকে নতুন নিবন্ধন আওতায় আনতে হবে।
৪. হয়রানি ও কটূক্তি প্রতিরোধ: বাউল ও সাধুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, অপপ্রচার বা সামাজিক উস্কানির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাগল-মস্তান-সন্ন্যাসী-বাউলদের বেশ ও জীবনাচারে আঘাত প্রতিহত করতে হবে।
৫. স্বাধীন চলাচলের নিশ্চয়তা: সাধু সংস্কৃতি রক্ষার্থে দেশের বিভিন্ন জেলায় সাধুদের যাতায়াত ও অনুষ্ঠান পরিচালনায় প্রশাসনিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।
৬. সরকারি সমন্বয় কমিটি গঠন: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন ও লালন সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি যোগাযোগ ও তদারকি কমিটি গঠন করতে হবে। লালন আখড়াবাড়িতে সাধুরীতি অনুযায়ী অনুষ্ঠান পরিচালনার স্বার্থে বয়োজ্যেষ্ঠ ও খেলাফতি সাধুদের নিয়ে আখড়াবাড়ি পরিচালনা কমিটি প্রণয়ন করতে হবে।
৭. সাধু কল্যাণ তহবিল বিবেচনা: প্রবীণ ও অসচ্ছল সাধুদের জন্য স্বাস্থ্য সহায়তা ও ন্যূনতম কল্যাণমূলক সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ছেউড়িয়ায় লালন একাডেমীর সাধু ও শিল্পী সমাজের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক সুররক্ষায় নিবন্ধিত শিল্পী সমাজ তথা ট্রাস্ট গঠন করতে হবে।
৮. লালন আখড়াবাড়ি সমাধি পুনঃনির্মাণ: উৎসবের সময় আখড়াবাড়ির লালন সমাধিসৌধে স্থানসংকুলান কঠিন হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে লালন অনুসারী সাধুদের মতামত নিয়ে সমাধি ভবনের পুনঃনির্মাণ এখন সময়ের দাবি।