“বইমেলা মানেই উৎসব, যেন একটা অন্যরকম আমেজ। বইমেলা মানেই যেন এক মিলনমেলা। কিন্তু এবার সেই প্রাণচাঞ্চল্যটা নেই। মনে হচ্ছে এবারের বইমেলায় প্রাণ নেই।” এভাবেই নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করলেন একুশে বইমেলায় ঘুরতে আসা এক পাঠক।
তিনি বলেন, প্রতিবছরই বইপ্রেমীদের জন্য এই মেলা একটি বিশেষ আয়োজন। নতুন বইয়ের ঘ্রাণ, প্রিয় লেখকের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ এবং বইপাগল মানুষের ভিড়ে জমে ওঠা প্রাণবন্ত পরিবেশ সব মিলিয়ে এটি হয়ে ওঠে এক অনন্য সাংস্কৃতিক উৎসব। তবে সেই চিরচেনা উচ্ছ্বাস এবারের মেলায় নেই বললেই চলে।
মেলায় ঘুরতে আসা আরেক পাঠক সাইফুল ইসলাম জানান, এবার মেলার সময় বারবার পরিবর্তন হওয়ায়, অনেকে হয়তো ঠিকভাবে জানতেই পারেননি যে মেলা শুরু হয়েছে। আবার রোজা চলে আসার কারণে ঢাকার বাইরে থাকা অনেকেই আসার সুযোগ হয়ে ওঠেনি।
এদিকে, প্রকাশকদের মধ্যেও এবারের মেলা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছে।
‘মা সেরা প্রকাশন’-এর সত্ত্বাধিকারী দেওয়ান মাসুদা সুলতানা বলেন, “বিগত কয়েক বছর ধরেই প্রকাশনা ব্যবসায় তেমন লাভ হচ্ছে না। বই প্রকাশ করা, মেলায় স্টল নেওয়া এবং অন্যান্য খরচ মেটানোর পর অনেক সময় প্রত্যাশা অনুযায়ী বিক্রি হয় না। এ বছর নির্বাচন এবং রমজানের কারণে প্রত্যাশাটা পুরোপুরি ম্লান হয়ে গেছে।
এদিকে, উদীচী প্রকাশনের এক বিক্রয়কর্মী বলেন, বাংলাদেশের পাঠক এখনও আছে এবং শেষের দিকে অবশ্যই মেলায় আসবে। তবে এখন যারা আসছেন, তাদের অনেকেই বই কেনার চেয়ে ছবি তোলার দিকেই বেশি আকৃষ্ট।
তবে অনেকেই আশাবাদের কথাও বলছেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, বইমেলা আমাদের প্রাণের মেলা, ঐতিহ্যের মেলা।মেলার শেষ দিন পর্যন্ত মানুষ বইমেলায় আসবে এবং বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ এই মেলাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “মেলায় কম বই বিক্রি হলেও কিছু যায় আসে না, আমাদের বই যে বের হচ্ছে সেটাই সবেচয়ে বড় কথা। কারণ বইমেলার মূল তাৎপর্য শুধু বই বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এই মেলার তাৎর্পয খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যার মাধ্যমে একটি জ্ঞানকেন্দ্রিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন লালন করা হয়।”
বিভিন্ন কারণে একাধিকবার তারিখ পরিবর্তনের পর অবশেষে ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় এবারের একুশে বইমেলা। শুরু থেকেই এই মেলাকে ঘিরে পাঠক, প্রকাশক এবং সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ছিল নানা আলোচনা ও মতামত। প্রথমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে মেলার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়। এর পরেও বিভিন্ন অজুহাতে পেছানো হয়েছিলো মেলার সময়সূচি।
আন্তর্জাতিক: ইরান কখনোই ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ করবে না: পেজেশকিয়ান