এমপিও স্কুল ও কলেজের প্রধান ও সহ-প্রধান নিয়োগের জন্য শিক্ষার তিন অধিদপ্তরের কাছে শূন্য পদের তথ্য চেয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।
আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে এমপিও (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সুপারেনটেনডেন্ট, উপাধ্যক্ষ, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও সহকারী সুপারেনটেনডেন্টের শূন্যপদের তথ্যের অনলাইন সফটকপির তালিকা চেয়ে তিন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে চিঠি পাঠিনো হয়েছে।
গত ৬ জানুয়ারি শিক্ষার তিন অধিদপ্তরে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান, সহ-প্রধান (অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপার ও সহকারী সুপার) নিয়োগসংক্রান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটির গত ৮ অক্টোবরের সভার সিদ্ধান্ত মতে এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান, সহপ্রধানের নিয়োগ সুপারিশ কার্যক্রম এনটিআরসিএর মাধ্যমে সম্পন্ন করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে অধিদপ্তরভিত্তিক নির্ভুল শূন্যপদের চাহিদা অনলাইন সফটকপি সংগ্রহ করা প্রয়োজন।
নির্ধারিত ‘ছকে’ শূন্য পদের তথ্য ও প্রতিষ্ঠানসংক্রান্ত তথ্য অন্তুর্ভুক্ত করে অনলাইন সফটকপি পাঠাতে বলা হয়েছে।
এনটিআরসিএর পরিচালক তাসমিন জেবিন বিনতে শেখ জানিয়েছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহ-প্রধান পদে এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ সুপারিশ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এসব পদে নিয়োগ সুপারিশ কার্যক্রম চালাতে মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের কাছে শূন্যপদের তথ্য চেয়ে গত ৬ জানুয়ারি চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে গত ৬ অক্টোবর এ পদগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর ফলে বেশকিছু প্রতিষ্ঠানে এ প্রশাসনিক পদ খালি রয়েছে। ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করার তিন মাস পরেও এনটিআরসিএর মাধ্যমে প্রধান, সহ-প্রধান নিয়োগ সুপারিশ কী প্রক্রিয়ায় চালানো হবে তা চূড়ান্ত করতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এ বিষয়ে তাসমিন জেবিন বিনতে শেখ বলেন, এসব পদে নিয়োগ সুপারিশ প্রক্রিয়া কীভাবে হবে তা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন তারা।
এসব পদে পৃথক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেয়ার বিধান আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলে তা ঘোষণা করে পরিপত্র জারি করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপর ওই পরিপত্রের আলোকে এনটিআরসিএ এ পদগুলোতে নিয়োগ কার্যক্রম চালাতে পারবে। এমপিওভ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পদে ৬৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশ করতে ইতোমধ্যে নিবন্ধিত প্রার্থীদের আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে বলে এনটিআরসিএর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
সরকার ২০১৫ সাল থেকে এনটিসিআরর মাধ্যমে এমপিও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আসছে। এতদিন প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহ-প্রধান (অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপার ও সহকারী সুপার) নিয়োগ দেয়া হতো প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি/পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে। এক্ষেত্রে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় বর্তমান সরকার এনটিআরসিএর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহ-প্রধান নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
অর্থ-বাণিজ্য: রমজান উপলক্ষে দ্রব্যমূল্য পর্যালোচনা সভা ১৯ জানুয়ারি
অর্থ-বাণিজ্য: সোনার দাম আবার বাড়ছে