ঢাকার সাত সরকারি কলেজের জন্য প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’র অধ্যাদেশ জারির দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
রোববারের মধ্যে দাবি না মানলে সোমবার থেকে ফের অবরোধের ঘোষণা
৫ ঘণ্টার অবরোধে যানজট-ভোগান্তি
ঢাবি শিক্ষার্থীদের বাস ভাঙচুর ও বাগ-বিতণ্ডা
বৃহস্পতিবার, (১৫ জানুয়ারী ২০২৬) দুপুর পৌনে ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তারা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
পৌনে পাঁচ ঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর বৃহস্পতিবার সায়েন্সল্যাব মোড় হয়ে মিরপুর সড়ক ও আশপাশের সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এর আগে ঢাকা কলেজ থেকে শিক্ষার্থীরা দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিছিল নিয়ে বের হন। দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে তারা সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করেন।
আগামী রোববারের মধ্যে দাবি না মানলে সোমবার তারা সায়েন্সল্যাব মোড়ে আবারও অবরোধ পালনের ঘোষণা দিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা অন্যতম নেতা নাঈম হাওলাদার বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় ওইদিনের অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, আগামী রোববারের মধ্যে সরকার ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ জারি না করলে সোমবার তারা সায়েন্সল্যাব মোড়ে আবারও অবরোধ করবেন। অধ্যাদেশ জারি না হলে সেদিন শিক্ষার্থীরা অধ্যাদেশ মঞ্চ তৈরি করবেন। পরবর্তী কর্মসূচি সেই মঞ্চ থেকে ঘোষণা করবেন।
রাজধানীর সাত সরকারি কলেজ হলো ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ ও তিতুমীর কলেজ।
অবরোধে ভোগান্তি হাজারো মানুষের
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারির দাবিতে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড় ও মিরপুরের টেকনিক্যাল মোড় অবরোধ করেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।
এদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা কলেজ থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে বের হয়ে ১২টা ৪০ মিনিটে তারা সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘উই ওয়ান্ট উই ওয়ান্ট, অর্ডিন্যান্স অর্ডিন্যান্স’, ‘রাষ্ট্র তোমার সময় শেষ, জারি করো অধ্যাদেশ’, ‘আমি কে তুমি কে, ডিসিইউ ডিসিইউ’।
কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ফারুক হাসান বলেন, ‘আমাদের একটাই দাবি, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। আর কোনো সময় দিতে চাই না।’
শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধের কারণে মিরপুর সড়ক ও আশপাশের অন্যান্য সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজট তৈরি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো মানুষ। গাড়ি না পেয়ে অনেকেই হেঁটে গন্তব্যে যান।
ভোগান্তিতে পড়া মানুষদের কেউ হাসপাতালের উদ্দেশে বের হয়ে সড়কে আটকে পড়েন। কারও পরীক্ষা ছিল। কেউ রাজধানীর এক স্থান হতে অন্য স্থানে ব্যক্তিগত কাজের উদ্দেশে বের হয়েছিলেন।
একই দাবিতে আগের দিন বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে রাজধানীর পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবরোধ পালন করেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। এতে সংশ্লিষ্ট সড়কসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের কবলে পড়েন হাজারো মানুষ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশের পরিমার্জিত খসড়া গত মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এটি দ্রুত সময়ের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নীতিগত সম্মতি এবং আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে (আইনি মতামত) উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
২০১৭ সালে যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্তির পর থেকেই সাত কলেজ নিয়ে সংকট চলছে। সংকট সমাধানে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ করার উদ্যোগ নেয়া হলেও প্রথম খসড়া নিয়ে আন্দোলন হয়।
সম্প্রতি পরিমার্জিত খসড়ায় বলা হয়েছে, কলেজগুলোর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে অনেকটা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ‘সংযুক্ত’ থেকে কার্যক্রম চালাবে। কলেজগুলোর বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধাও অক্ষুণœ থাকবে।
যানজট ভোগান্তিতে পড়া আফরিন রহমান নামের একজন জানান, তিনি মেয়েকে নিয়ে স্কুটি চালিয়ে এসেছিলেন রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে। তাদের গন্তব্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। দুপুর ২টায় মেয়ের একটি পরীক্ষা। কিন্তু সায়েন্সল্যাব মোড়ে আসতেই তাদের থামিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা।
তিনি আরও জানান, আন্দোলনকারীদের প্রবেশপত্র দেখানোর পরও তাদের স্কুটি নিয়ে যেতে দেয়া হয়নি। প্রায় ৪০ মিনিট অপেক্ষা করার পর তার মেয়ে স্কুটি থেকে নেমে হেঁটে কাঁটাবন মোড়ে চলে যান। সেখান থেকে রিকশায় করে বিশ্ববিদ্যালয়ে যায় তার মেয়ে।
ঢাবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাগ-বিতণ্ডা
অবরোধ চলাকালীন দুপুর দেড়টার দিকে উল্টোপথে সায়েন্সল্যাব মোড়ে আসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেদার ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি বাস। শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে সেটি আটকে যায়। এ নিয়ে বাসে থাকা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বাগ-বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে বাসটি ভাঙচুর করা হয়।
দুপুর সোয়া তিনটায় ঢাবি শিক্ষার্থীদের অনুরোধে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বাসটি ছেড়ে দেন। কিন্তু সায়েন্সল্যাব মোড় ছেড়ে যাওয়ার সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঢাবি শিক্ষার্থীদের বাগ-বিতণ্ডা হয়। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বাসটিতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে বাসের কাঁচ ভেঙে যায়, তবে কেউ আহত হয়নি।
এ বিষয়ে ঢাকা কলেজের এক শিক্ষার্থী তামজিদ হোসেন বলেন, ঢাবি শিক্ষার্থীদের অনুরোধে তারা বাসটি ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু যাওয়ার পথে তারা আন্দোলনকারীদের ব্যঙ্গ করে স্লোগান দেন। তারা আন্দোলন নিয়ে অপমান করেন। এতে শিক্ষার্থীরা ক্ষেপে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেন বলে দাবি করেন তামজিদ।
অপরাধ ও দুর্নীতি: জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে জালিয়াতি, তথ্য বিক্রি করে মাসে কোটি টাকার বেশি আয়
শিক্ষা: এসএসসি পরীক্ষা ২১ এপ্রিল শুরু