image

ইউএপি’র চাকরিচ্যুত দুই শিক্ষকের পুনর্বহাল চায় শিক্ষক নেটওয়ার্ক

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

ইউএপি’র দুই শিক্ষককে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। ‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের চাকরিচ্যুত দুই শিক্ষককে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।

বুধবার, (২১ জানুয়ারী ২০২৬) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সামিনা লুৎফা জানান, ‘বাংলাদেশে বিদ্যায়তনিক স্বাধীনতা বা একাডেমিক ফ্রিডমের সংকট বরাবরই অত্যন্ত প্রকট। শাসক ও ক্ষমতাবানরা বিদ্যায়তনিক স্বাধীনতার গলা চিপে ধরে ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে সবাইকে একই সুরে কথা বলতে বাধ্য করতে চান। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা বহু সংকট কাটানোর প্রত্যাশা করেছিলাম। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি ছিল গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও বাকস্বাধীনতা রক্ষা করা। বিদ্যায়তনিক স্বাধীনতার নিশ্চয়তা সেই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও বাকস্বাধীনতা লালনেরই বহিঃপ্রকাশ, যার সঙ্গে খোদ বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক ধারণাটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং বহুমত-বহুপথের সম্মিলনই বিশ্বব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়কে সমাজের অপরাপর প্রতিষ্ঠান থেকে স্বতন্ত্র করেছে।’ অভ্যুত্থানোত্তর বাংলাদেশে এই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক ধারণাকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে একটি গোষ্ঠী, যারা ধর্মকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে ভিন্নমত দমনের পাশাপাশি আগ্রাসী পথে ক্ষমতায়িত হতে তারা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোকে ব্যবহার করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এশিয়া প্যাসিফিকের এই দুই শিক্ষকসহ বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে কেবল স্বাধীন মত-প্রকাশ বা ভিন্নমত পোষণ করার কারণে অনেক শিক্ষককে হেনস্তা ও হয়রানি করা এবং প্রায় সবক্ষেত্রেই ধর্মানুভূতিকে ঢালাওভাবে ঢাল বানানোর ক্ষেত্রে সর্বশেষ স্বীকার বলে উল্লেখ করেন তিনি। লায়েকা বশিরের বিরুদ্ধে ‘হিজাব পরায় ছাত্রীকে হেনস্তার’ অভিযোগ এবং সহযোগী অধ্যাপক এ এস এম মোহসীনের বিরুদ্ধে ‘আওয়ামী লীগ সম্পৃক্ততার’ অভিযোগ তোলা হলে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে গত রোববার তাদের চাকরিচ্যুত করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। লায়েকা বশীরের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগগুলো তুলে ধরে এই হয়রানির সময় তার পাশে না থেকে উল্টো কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই উপাচার্য ফোন করে লায়েকা বশীরকে পদত্যাগ করতে নির্দেশ দেয়াকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে সব বিষয়ের তদন্ত দাবি করেন সামিনা লুৎফা।

তিনি বলেন, ‘সে সময় পর্যন্ত আসা অভিযোগগুলো ছিল মূলত ফেইসবুকে এবং অনেকক্ষেত্রে কতগুলো বায়বীয় বিষয়কে নিয়ে, যার সিংহভাগই এসেছিল ফেইক একাউন্ট থেকে। যার ফলে হাতে তেমন কিছু না থাকায় তদন্ত কমিটি লায়েকা বশীরের বিরুদ্ধে গুগল ফর্ম তৈরি করে অভিযোগ আহ্বান করে, যা জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল গত ৩১ ডিসেম্বর। এই পুরো প্রক্রিয়াটিই বলে দিচ্ছে, লায়েকা বশীর আভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। যেখানে অজুহাত ও ঢাল বানানো হয়েছে ধর্মানুভূতিকে এবং ব্যবহার করা হয়েছে দঙ্গলবাজদের।’ অধ্যাপক আনু মোহাম্মদের উপস্থিতিতে এ ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ‘দীর্ঘ কিংকর্তব্যবিমূঢ় ও নীরব ভূমিকার’ নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে চারটি বিষয় আলোচনা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলোÑ ১. অবিলম্বে লায়েকা বশীর ও সায়েম মোহসীনকে চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে এবং এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো ইউএপি’র অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে হয়রানি বন্ধ করতে হবে। ২. যথাযথ প্রক্রিয়া ও আইনের শাসন চালুর ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ধরনের শিক্ষাবিরোধী অপতৎপরতা বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বরতদের যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হবে এবং দঙ্গলবাজদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ৩. কথায় কথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুতির হুমকি বন্ধ করতে হবে এবং যথোপযুক্ত নীতিমালা বাস্তবায়ন করে তাদের কর্মজীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

৪. বিদ্যায়তনিক শৃঙ্খলা ও স্বাধীনতার স্পিরিটকে রক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক ধারণাকে সমুন্নত রাখতে সচেষ্ট থাকতে হবে।

‘শিক্ষা’ : আরও খবর

সম্প্রতি