অষ্টম শ্রেণীতে পাবলিক পরীক্ষা (জেএসসি) বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা বাদ রাখা এবং নবম শ্রেণীতে বিভাগ বিভাজন পদ্ধতি বাতিলের সুপারিশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়নে গঠিত পরামর্শক কমিটি।
এ কমিটি মাধ্যমিকে সব বিষয়ে পাবলিক পরীক্ষা না নিয়ে মূল দক্ষতা সংশ্লিষ্ট নির্ধারিত কয়েকটি বিষয়ে নেয়া এবং দেশের জলবায়ুর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সেপ্টেম্বর থেকে জুন বা কাছাকাছি সময়ে শিক্ষাবর্ষ নির্ধারণের সুপারিশ করেছে।
মঙ্গলবার,(১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) সচিবালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ কর্মদিবসে বেসরকারি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদকে প্রধান করে গঠিত কমিটি সুপারিশসহ খসড়া প্রতিবেদন শিক্ষা উপদেষ্টার কাছে জমা দেন।
এ বিষয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা সিআর আবরার সাংবাদিকদের বলেছেন, শিক্ষা খাত কেবল একটি সেকেন্ডারি সেক্টর নয়, বরং জাতি গঠনের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। বর্তমান উদ্যোগটি সম্পূর্ণভাবে দেশীয় চাহিদা, মেধা ও শ্রমের সমন্বয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এ কমিটির সুপারিশগুলো পরবর্তী সরকার গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে বলে তিনি আশা করছেন।
প্রতিবেদনে সাধারণ মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য আশু, মধ্যমেয়াদ এবং দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়নযোগ্য একগুচ্ছ সুপারিশ করা হয়েছে। এর আগে অক্টোবরে মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, মাধ্যমিক শিক্ষার ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিখন-শেখানো কার্যক্রমের উৎকর্ষ সাধনের জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ দিতে শিক্ষাবিদ, বিশেষজ্ঞ ও মাধ্যমিক শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয়ে এ কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
কমিটি দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪৪টি কর্মশালা ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। এছাড়া অষ্টম ও নবম শ্রেণী সমাপ্ত করা ৪৩৭ জন শিক্ষার্থীর বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত পরীক্ষাও নিয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৪ সালে প্রণীত ‘নতুন শিক্ষাক্রমে’ নবম শ্রেণীতে বিভাগ (বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা ইত্যাদি শাখা) বিভাজন তুলে দেয়া হয়। বাতিল করা হয়েছিল পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষাও। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার সেই শিক্ষাক্রম বাতিল করে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে যায়। এতে নবম শ্রেণীতে বিভাগ বিভাজন, বৃত্তি পরীক্ষাসহ প্রতিটি শ্রেণীতেই ফিরে আসে পুরনো পদ্ধতি।
পরামর্শক কমিটির সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কমিটির শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়া এবং শিক্ষার্থী মূল্যায়ন বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার সুপারিশ করেছে। মাধ্যমিক স্তরে বর্তমান পাঠ্য বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে ভাষা (বাংলা ও ইংরেজি), গণিত, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির দক্ষতা তৈরিকে ভিত্তিমূলক দক্ষতা হিসেবে অগ্রাধিকার দিতে বলেছে কমিটি। তথ্যপ্রযুক্তির দক্ষতা তৈরির উপায় হবে শ্রেণীকক্ষে এবং শিক্ষার্থীদের নিজের কাজে কম্পিউটার ব্যবহার ও চর্চার সুযোগ করে দেয়া হবে বলে কমিটি মনে করছে।
দশম শ্রেণী পর্যন্ত অবিভাজিত শিক্ষাক্রমের ওপর গুরুত্ব দিয়ে কমিটি বলেছে, নবম শ্রেণী থেকে বিদ্যালয় শিক্ষাকে বিভিন্ন ধারায় বিভাজিত করার সিদ্ধান্ত সুবিবেচিত হয়নি। এই বিভাজন একাদশ শ্রেণী থেকে হওয়া বাঞ্ছনীয়।
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনায় সহ-শিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমকে বছরব্যাপী একটি নিয়মিত কার্যক্রম হিসেবে বিবেচনা করতে বলেছে কমিটি। কমিটি বাংলাদেশের জলবায়ুর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সেপ্টেম্বর থেকে জুন বা কাছাকাছি সময়ে শিক্ষাবর্ষ নির্ধারণ করার সুপারিশ করেছে। এক্ষেত্রে প্রধানত জুলাই-আগস্ট মাসে বার্ষিক গ্রীষ্মের ছুটি হতে পারে।
কমিটি বলেছে, পাবলিক পরীক্ষা মূল দক্ষতার বিষয়গুলোতে (বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সমাজপাঠ ও বিজ্ঞানে) সীমিত থাকবে। এসব বিষয়ে প্রশ্ন দক্ষতাভিত্তিক ও প্রয়োগমুখী হবে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের অনেক বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হয়, যার ফলে কিশোর বয়সেই তাদের ওপর ‘অপ্রয়োজনীয় একাডেমিক চাপ’ সৃষ্টি হয়। এতে ভাষা ও গণিতের মতো ভিত্তিমূলক দক্ষতা জোরদার করার সুযোগ কমে যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কম্পিউটার দক্ষতার জন্য পরীক্ষার চেয়ে চর্চা ও অভিজ্ঞতার সুযোগ বেশি প্রয়োজন। বিদ্যালয়ভিত্তিক মূল্যায়ন প্রধানত হবে পাঠ্যপুস্তক ও পাঠ্য বিষয়ভিত্তিক। পাবলিক পরীক্ষা হবে মূলত শিক্ষার্থীর অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য। বিদ্যালয় মূল্যায়ন অনুসারে বার্ষিক রিপোর্ট কার্ড দেয়া যেতে পারে। এতে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ও সহ-শিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম বিষয়ে অংশগ্রহণের মূল্যায়ন প্রতিবেদন হবে।
অর্থ-বাণিজ্য: নিজেকে ১শ’র মধ্যে ৭০ নম্বর দিলেন অর্থ উপদেষ্টা
অপরাধ ও দুর্নীতি: দুর্নীতির ধারণা সূচকে বাংলাদেশের সামান্য উন্নতি: টিআইবি