image

শিক্ষা সংস্কারে ধৈর্যশীল পদক্ষেপে বিশ্বাসী ববি হাজ্জাজ

৫৪ বছরের জট খুলতে চাই আলাপ-আলোচনায়

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা নিরসনে কোনো হুটহাট সিদ্ধান্ত নয়, বরং সকলের সাথে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবসম্মত সমাধানের পথে হাঁটতে চায় নতুন সরকার।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ তাঁর এই দৃঢ় অবস্থানের কথা ব্যক্ত করেন।

গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ফারহান ফাইয়াজের স্মৃতি রক্ষায় মোহাম্মদপুর রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ সংলগ্ন "নানক চত্বর" এর নাম পরিবর্তন করে "শহীদ ফারহান ফাইয়াজ সরণি" হিসেবে রাখার এই অনুষ্ঠা‌নে তিনি শিক্ষা সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরেন।

প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, গত ৫৪ বছরে যে ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়নি, তা একরাতে বা কোনো একক হুটহাট সিদ্ধান্তে বদলে ফেলা সম্ভব নয়; বরং এমন পদক্ষেপ হিতে বিপরীত হতে পারে।

​শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ববি হাজ্জাজ জানান, শিক্ষকদের বেতন কাঠামো এবং প্রাথমিক ও সহকারী শিক্ষকদের গ্রেড বৈষম্য দূর করার বিষয়টি সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। এরই মধ্যে শিক্ষক নেতাদের সাথে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে আরও বৃহৎ পরিসরে আলাপ-আলোচনার জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বিশ্বাস করেন, শিক্ষকদের কাজ অন্য দশটা সরকারি চাকরির মতো নয়, কারণ তারা জাতির ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর। তাই তাদের বেতন বা সুযোগ-সুবিধা নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে এক টেবিলে বসে পরামর্শ করা জরুরি।

ভর্তি ফি ফেরত বা অন্যান্য একাডেমিক পরিবর্তনের বিষয়েও তিনি "রেট্রোঅ্যাকটিভ" বা পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আগে ব্যাপক জনমত ও বিশেষজ্ঞ মতামতের ওপর জোর দেন।

​ববি হাজ্জাজ তাঁর বক্তব্যে কেবল প্রশাসনিক সংস্কার নয়, বরং জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাবোধের বিষয়টিও ফুটিয়ে তোলেন। এবারের নির্বাচনে জনগণের ভালোবাসা ও ভোটে জয়ী হওয়ার অনুভূতি বল‌তে গিয়ে তিনি বলেন, আগে কৃত্রিমভাবে বাধা দেওয়া হলেও এবার জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত আস্থায় তিনি বিজয়ী হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে গুরুদায়িত্ব তাঁর ওপর অর্পণ করেছেন, তা তিনি সততা ও ধৈর্যের সাথে পালন করতে চান। বিশেষ করে শিক্ষা নিয়ে কোনো রাজনীতি না করে দেশ গড়ার হাতিয়ার হিসেবে একে গড়ে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য।

আজকের এই চত্বরের নামকরণ যেমন একটি আন্দোলনের শহীদকে সম্মান জানানো, তেমনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি পদক্ষেপও ছাত্র-জনতার সেই ত্যাগের চেতনাকে ধারণ করেই পরিচালিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

‘শিক্ষা’ : আরও খবর

সম্প্রতি