image

রাকসু জিএসের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, ব্যাখ্যা চাইতে গেলে বাকবিতণ্ডা

রাবি প্রতিনিধি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) কার্যক্রম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা এক সমালোচনামূলক পোস্টকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পোস্টটির মন্তব্যঘরে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দীন আম্মার গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূরকে উদ্দেশ করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে অভিযোগকারী শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত আক্রমণও করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

অভিযোগকারী দুই শিক্ষার্থী হলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী হাসান মারুফ ও সাধারণ সম্পাদক আল শাহরিয়ার শুভ। কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের বিষয়ে জিএসের কাছে ব্যাখ্যা চাইতে তার দপ্তরে গেলে সেখানেও উসকানিমূলক কথাবার্তা হয়। এসময় তারা বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

রাকসুর সমালোচনা করে মেহেদী মারুফ তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “রাকসু ফরজ কাজ বাদ দিয়ে নফল কাজেই বেশি মনোযোগী আর পারদর্শী। হবেই না বা কেন? নফল দিয়েই যদি বৈতরণি পার হওয়া যায়, তাহলে ফরজের আর দরকারটা কি!”

এর প্রতিত্তোরে মন্তব্যঘরে সালাউদ্দীন আম্মার লেখেন, “...শুরু?...নাম নুরু।”প্রতিত্তোরে মারুফ লেখেন, “নুরু-ই করেছিলো শুরু, তাই তুমি আজ...থেকে বের হয়ে হুঙ্কার ছাড়ো...!”এর জবাবে আম্মার মন্তব্য করেন, “শুনো মারুফ! বাম আর পরিষদ মিলাইয়া কি বানাবা?...? তোমার বাপ যে সময় আন্দোলনে নেতৃত্ব দিছে সেসময় আমিও আন্দোলন করছি ১৮ তে। তুমি কারে ...কও? ৫৫৪ ভোটের...! সব তুমি আপনিতে কনভার্ট করে নিও কেমন?...তোমার রাজনীতির এথিকস হয়ে গেছে এজন্য আপনিগুলো তুমি হয়ে গেলো। একটা প্রতিবাদলিপি দিও।”

এসময় মেহেদী মারুফ লেখেন, “তুই...রাজনৈতিক শিষ্টাচার আগে শেখ, তারপর কথা বলিস। তুই নিজেই তো একটা..., এটা মোটামুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই জানে। তোর দিকে ঢিল ছুঁড়লে তার গা আর ভালো থাকার উপায় আছে?...।”

পরবর্তীতে আম্মার আরও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় মন্তব্য করেন,“তুই....রাজনীতিটাই তো.... আর...(প্রকাশ অযোগ্য) দিয়ে করিস। তোর সাথে কিসের রাজনৈতিক শিষ্টাচার?...।”

অন্যদিকে, আল শাহরিয়ার শুভ নিজের ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “সালাউদ্দিন আম্মার তোর মতো ল্যাপটপ...আর...কাছে এর চেয়ে ভালো আচরণ আর কী আশা করা যায়! টিকটক আর সিম্প্যাথি ব্যবসা পোলাপান ধরে ফেলছে রে। সিনিয়রদের কিভাবে কথা বলতে হয় শিখে নিস, এটা তো পারিবারিক শিক্ষা। তোর পারিবারিক শিক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলে গেলাম। নিজের রাজনৈতিক পরিচয় লুকিয়ে রাখা...তিন নাম্বার...হুঙ্কার দেয়। কী দিন আসলো! ছাত্র অধিকার পরিষদ নিয়ে পড়াশোনা করিস। সবজায়গায় তো সাবজেক্ট কোটা থাকে না রে পাগলা।”

এই পোস্টের মন্তব্যঘরে রাকসু জিএস আম্মার লেখেন, “তোদের মতো... (প্রকাশ অযোগ্য) নিয়ে পড়াশোনা করা লাগবে? তুই আর তোর ভাই একজন আরেকজনের...দিয়া...থাক।”

পরবর্তীতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেহেদী হাসান মারুফ বলেন, “একজন জিএসের মুখের ভাষা এরকম কূরুচিপূর্ণ হতে পারে না। তার কাছে আমরা জবাবদিহি চাইতে গেলে সে আমাদের সঙ্গে উসকানিমূলক কথাবার্তা বলে। সে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে নিয়ে কূরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে গেছে। তার মুখের ভাষা লাগামহীন হয়ে গেছে। তাকে মানসিক চিকিৎসার জন্য প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানাই।”

অভিযোগের বিষয়ে সালাউদ্দীন আম্মার বলেন, “যারা রাজনীতি করার কোনো টপিক খুঁজে পাচ্ছে না, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে খোঁচাখোঁচি করতে চায়, যাতে রিয়েক্ট করা হয় এবং তারা সে বিষয়ে রাজনীতি করতে পারে। এখানে নুরুর কোন প্রশ্ন আসে না। এটেনশন নেওয়ার জন্য তারা এটা করেছে।”

‘শিক্ষা’ : আরও খবর

সম্প্রতি