বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর ঝুলে থাকা নেতৃত্বের সংকট কাটাতে সম্প্রতি বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি চেয়েছিলেন ঈদুল ফিতরের পরপরই দ্রুততম সময়ের মধ্যে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সুপারসহ প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের পরীক্ষাটি সম্পন্ন করতে। কিন্তু প্রশাসনিক ও কারিগরি বাস্তবতার যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে সেই উদ্যোগটি আপাতত দ্রুত আলোর মুখ দেখছে না।
সোমবার (২ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠক শেষে জানানো হয়েছে, পূর্বনির্ধারিত ১৮ এপ্রিলই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত এই নিয়োগ পরীক্ষা।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকে পরীক্ষা এগিয়ে আনার যে বিশেষ নির্দেশনা ছিল, তা বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রশ্নপত্র ছাপানোর জটিলতা। বর্তমানে বিজি প্রেস দেশজুড়ে চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র মুদ্রণে শতভাগ ব্যস্ত সময় পার করছে।
ফলে বিজি প্রেস কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, মার্চের শেষ সপ্তাহ বা এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে নতুন করে সাড়ে ৮৬ হাজার প্রার্থীর এই নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি ও সরবরাহ করা তাদের পক্ষে অসম্ভব। এই কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণেই এনটিআরসিএ-কে তাদের আগের সূচিতেই স্থির থাকতে হচ্ছে।
এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়াটি নানা কারণেই ঐতিহাসিক। প্রথমবারের মতো এনটিআরসিএ এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার মোট ১৩ হাজার ৫৫৯টি শূন্যপদের বিপরীতে এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
এর মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা স্থানীয় নিয়োগ বাণিজ্যের অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। মোট ৮৬ হাজার ৪৪৫ জন প্রার্থী এই পদগুলোর জন্য আবেদন করেছেন, যাদের পরীক্ষা তিনটি ভিন্ন গ্রুপে (ক, খ ও গ) একই দিনে তিনটি আলাদা স্লটে গ্রহণ করা হতে পারে। ৯ ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবেদন প্রক্রিয়া চলে। এখন বিজি প্রেসের ব্যস্ততা কমার পর প্রশ্নপত্র হাতে পেলেই ১৮ এপ্রিল এই বড় কর্মযজ্ঞ শুরু করবে কর্তৃপক্ষ। শিক্ষাখাতে স্বচ্ছতা ফেরানোর এই লড়াইয়ে মন্ত্রীর সদিচ্ছা থাকলেও যান্ত্রিক সীমাবদ্ধতায় প্রার্থীদের অপেক্ষার প্রহর আরও কয়েক সপ্তাহ দীর্ঘ হলো।
অর্থ-বাণিজ্য: সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মুসলিম চৌধুরীর পদত্যাগ
নগর-মহানগর: শুরু হলো ঈদ উৎসবের অগ্রিম টিকেট যুদ্ধ