জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতি নির্বাচন ঘিরে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন সংগঠনের দুই গ্রুপের সদস্যরা।
সাংবাদিকদের অনেকে ইসলামী ছাত্র শিবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। আর একে অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে শাখা ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবির। এ সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানা যায়।
বুধবার (৫ মার্চ) অবকাশ ভবনের ৩য় তলায় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
আহত বাংলাদেশ প্রতিদিনের মাহির আমির মিলন বলেন, সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনে আমাদেরকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি না করার বিষয়টি জিজ্ঞেস করতে গেলে তারা আমাদের উপর লাঠি ও স্ট্যাম্প নিয়ে হামলা চালায়। সমিতির কার্যালয়ে তারা লাঠি ও স্ট্যাম্প লুকিয়ে রেখেছিল। তাদের অতর্কিত হামলায় আমি গুরুতরভাবে আহত হই। আমাকে বুকে আঘাত করে। আমার শ্বাসকষ্টের অসুবিধা থাকায় আমার দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়।
সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রতিনিধি মাহামুদুর রহমান নাজিদ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধি মো. মিলন হোসেন মিলন, প্রথম আলোর প্রতিনিধি শাহাদাত হোসেন, কালের কন্ঠের প্রতিনিধি জুনায়েদ শেখ, যুগান্তরের প্রতিনিধি সাকেরুল ইসলাম, সময়ের আলোর প্রতিনিধি মুশফিকুর রহমান ইমন, জনকন্ঠের জগন্নাথ প্রতিনিধি ওমর ফারুক, দৈনিক যায়যায়দিনের প্রতিনিধি মিজান উদ্দিন মাসুদ, দৈনিক বর্তমানের প্রতিনিধি মো. আরিফুল ইসলাম, দৈনিক তরুণকন্ঠের প্রতিনিধি আবিধ হাসান বাঁধন, ব্রেকিং নিউজ ডটকমের প্রতিনিধি মো. ইয়াসিন সাইফ, বাংলাদেশ গার্ডিয়ানের হাবিবুর রহমান, রুপালি বাংলাদেশের নাফিজ উদ্দিন, ও রেডিও টুডের আবুল হাসনাত।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রঅধিকার পরিষদের সভাপতি একেএম রাকিব, শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক ও জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফও আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশক্তি এবং ছাত্র অধিকার পরিষদ আলাদা আলাদা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আহত বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রতিনিধি মাহামুদুর রহমান নাজিদ বলেন, সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনে আমাদের প্রায় ৩৫ জন সাংবাদিককে বাদ দিয়ে ভোটার তালিকা প্রকাশ করে মনোনয়ন বিক্রি করছিলো। এ সময় আমরা জিজ্ঞেস করলে তারা আমাদের উপর হামলা করে। হামলার সময় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির সাধারণ সম্পাদক ও জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ এবং ছাত্রশিবির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জকসুর শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ইব্রাহীম খলিল হামলার নেতৃত্ব দেন।
তবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক সাকেরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজকে সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের দিন ধার্য ছিল। এর মধ্যে বেলা পৌনে একটার দিকে ছাত্রদলের সুপার ফাইভের নেতৃত্বে সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে প্রবেশ করে হামলা চালায় কিছু বহিরাগত। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্ব থেকে ছাত্রলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বারবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সহ প্রশাসনের উপর চাপ দিয়ে আসছিলো, যাতে সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনী কার্যক্রম বন্ধ করা হয়।
তবে আহত সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন, "শিবির এবং জকসু প্রতিনিধিরা" সাংবাদিক সমিতির কার্যালয় "দখল করে" জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনের মনোনয়ন ফর্ম বিক্রি করছিলেন। চুড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভূক্তি না হওয়ার বিষয়টি জিজ্ঞেস করা হলে "শিবিরের জকসু নেতৃবৃন্দ" ও "তাদের মতাদর্শী" সাংবাদিকরা স্ট্যাম্প ও লাঠি দিয়ে হামলা চালায়। অতর্কিত হামলায় তারা আহত হন।
আহতদের আরও অভিযোগ, সম্পূরক বৃত্তি নিয়ে জকসুর "ব্যার্থতা" একাধিক পত্রিকায় প্রতিবেদন আসে। সেই সাংবাদিকদের "লক্ষ্য করেই" এই হামলা চালানো হয়।
তবে শাখা ছাত্রশিবির সাধারণ সম্পাদক ও জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, দুপুরে জকসুর একটি পূর্বনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন ছিলো। সংবাদ সম্মেলন শেষে জকসুর অফিসে থাকা অবস্থায় অবকাশ ভবনের উপরতলা থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে সেখানে গিয়ে মারামারির ঘটনা দেখতে পাই। জকসুর প্রতিনিধি হিসেবে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করি, একেবারে শেষ সময় আমার বাম হাতে আঘাত লাগে।
তিনি আরো বলেন, জকসুর জিএস বা শিবিরের নেতৃত্ব হামলার যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা একেবারেই মিথ্যা ও দায় দেয়ার সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, আমরা চাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রতিটি সাংবাদিক সংগঠন নিরপেক্ষতা বজায় রেখেই চলবে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করতে পাই একটা গোষ্ঠি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি কে তাদের পক্ষে নিতে নিয়মবহির্ভূত ভাবে কারো সাথে কোন আলোচনা না করে গঠনতন্ত্র প্রনয়ণ করে। আমরা চাই সাংবাদিকদের সংগঠন সাংবাদিকরাই নেতৃত্ব দিবে, এখানে আমাদের কোন দায়িত্ব নেই। তবে আমরা চাই এটা যাতে কারো পক্ষপাতিত্ব না হয়। এজন্য আমরা ভিসি স্যার, প্রক্টর স্যার নির্বাচন কমিশনারকে বলেছি তারা যেনো সবার সাথে আলোচনা করে তারপর একটা নিরপেক্ষ তফসিল ঘোষণা করে।
ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রায়হান হাসান রাব্বি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আমরা বৃত্তির জন্য আন্দোলন করছিলাম। হঠাৎ করে সাংবাদিক সমিতির দুই গ্রুপের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আমরা বেশ কিছুক্ষন পর ভিসি স্যারের কাছে গিয়ে এ বিষয়ে অবগত করি এবং স্যারের মধ্যস্ততায় এটি সমাধানের অনুরোধ করি। যেহেতু আমরা অবস্থান কর্মসূচি করছিলাম তাই সরাসরি সেখানে গেলে আমাদের বিরুদ্ধে আঙুল তুলে আন্দোলন ভিন্ন দিকে তরান্বিত করতে পারে তাই আমরা যাইনি। এরপর প্রক্টর স্যার সেখানে যাওয়ার পর একেএম রাকিব সেখানে যায় এবং সবাইকে নামিয়ে আনে।
জাতীয় ছাত্রশক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদ বলেন, আমরা সবসময় ক্যাম্পাসে স্থিতিশীল পরিবেশ চাই।
আন্তর্জাতিক: আল আকসা মসজিদে জুমার নামাজে নিষেধাজ্ঞা
আন্তর্জাতিক: ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের নতুন সর্বাধিনায়ক ওয়াহিদি