বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, এগার দফা ছাত্র আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণ অভ্যুথান ও মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা ছিল অনন্য। পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই প্রথম রুখে দাঁড়িয়ে বুকের রক্ত দিয়েছিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আন্দোলন সংগ্রামকে স্মরণ করে ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনে ২০শে ডিসেম্বর শনিবার পূর্ব লন্ডনের স্থানীয় একটি হলে দুটি পর্বে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ এবং বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঢাকা ইউনিভার্সিটি আ্যলামনাই ইন দ্য ইউকে ৫৫তম বিজয় দিবস উদযাপন করেছে।
সহ-সভাপতি রিপা সুলতানা রাকীবের তত্ত্বাবধানে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’ গান গেয়ে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়েছে।
সংগঠনের সভাপতি সিরাজুল বাসিত চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের আলোচনা ও স্মৃতিচারণ পর্ব পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কামরুল হাসান।
বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে মুক্তিবাহিনীর উপ প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকারের মৃত্যুতে তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে উপস্থিত সকলে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
স্মৃতিচারণ পর্ব ‘স্মৃতির জানালা’ উপস্থাপনা করেন সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ জাফর। স্মৃতিচারণে অংশ নেন
সংগঠনের উপদেষ্টা শাহগীর বখত ফারুক ও মুক্তিযোদ্ধা এবং সংগঠনের উপদেষ্টা আবু মুসা হাসান। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহারুন আহমেদের উপস্থাপনায় স্মৃতিচারণে অংশ নেন মুক্তিযোদ্ধা ও সংগঠনের উপদেষ্টা দেওয়ান গৌস সুলতান ও উপদেষ্টা আব্দুর রাকীব॥ সহ-সভাপতি নিলুফা ইয়াসমীন হাসানের উপস্থাপনায় স্মৃতিচারণে অংশ নেন উপদেষ্টা সহুল আহমেদ মকু, নির্বাহী সদস্য প্রশান্ত লাল দত্ত পুরকায়স্থ এবং সাধারণ সম্পাদক এম কিউ হাসানের উপস্থাপনায় স্মৃতিচারণে অংশ নেন নির্বাহী সদস্য মাহফুজা রহমান ও নির্বাহী সদস্য সৈয়দ আবু ইকবাল।
সাক্ষাৎকারে দুইজন মুক্তিযোদ্ধা তাদের মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন। তারা বলেন, মার্চ মাসের শুরুতেই তারা মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলেন। এক প্রশ্নে তারা বলেন, অনেক শিক্ষার্থী সেই সময়ে মুক্তিযুদ্ধে যায়নি। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করেছে, পরীক্ষা দিয়েছে। তাই মুক্তিযুদ্ধ থেকে ফিরে তাদেরকে আটো প্রমোশন নিতে হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের প্রতক্ষদর্শীরা তাদের অভিজ্ঞতা বর্ণনার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের উপর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা যে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল তার বর্ণনা দেন।
সংগঠনের উপদেষ্টা হাবিব রহমান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে প্রবাসে বসে যে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন তা তুলে ধরেন। পাশাপাশি বাংলাদেশে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ছায়ানট ও উদীচীর উপর আক্রমনের নিন্দা জানান।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন নির্বাহী সদস্য মারুফ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি মির্জা আসাব বেগ।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সাংস্কৃতিক সম্পাদক এরিনা সিদ্দিকী সুপ্রভার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ‘সব কটা জানালা খুলে দাওনা’ গানের সাথে প্রেরণা মন্ডলের নৃত্যের মাধ্যমে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন রাশিদা বানু, তারেক সৈয়দ, সৈয়দ জুবায়ের, কেজেবি কনক, রিপা সুলতানা রাকীব, কাজী কল্পনা, নিলা নিকি খান, সাঈদা চৌধুরী ও সাঈদা তামান্না।
কবি শামসুর রহমানের কালজয়ী কবিতা ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’ যৌথ আবৃত্তি করেন মেজবাহ উদ্দিন ইকো ও মাহমুদা চৌধুরী, এবং ‘স্বাধীনতা তুমি’ আবৃত্তি করেন মিজানুর রহমান।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের দুইজন সদস্যকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন দুই সংগীতশিল্পী সাঈদ জুবায়ের ও তারেক সায়েদ।
অনুষ্ঠানে আগত সবাইকে ‘বিজয়ফুল’ পরিয়ে দেন সৈয়দ হামিদুল হক, মাহফুজা রহমান, মাহারুন আহমেদ ও নিলুফা ইয়াসমীন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: স্মার্ট টিভিতে গুগল ফটোস, এআই ফিচার আনছে স্যামসাং
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: গুগলের নতুন ফিচার, বদলানো যাবে জিমেইল ঠিকানা