মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে যুদ্ধের ঘনঘটা কেবল সেই অঞ্চলের মানুষের জীবনকেই বিপন্ন করেনি, তার বিরূপ প্রভাব আছড়ে পড়ছে হাজার মাইল দূরের চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও।
শুক্রবার (৬ মার্চ) গভীর রাতে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ ও দোহার মতো গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই বিমানবন্দর থেকে আরও ১৪টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
রাত ১১টায় শাহ আমানত বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এ পর্যন্ত মোট ৬৮টি ফ্লাইট বাতিলের নজির সৃষ্টি হলো, যা আন্তর্জাতিক আকাশ যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বড় ধরনের স্থবিরতা নিয়ে এসেছে।
বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের তিনটি, এয়ার আরাবিয়ার ছয়টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের পাঁচটি ফ্লাইট তাদের শিডিউল বজায় রাখতে পারেনি। এর মধ্যে অনেকগুলো ছিল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা আগমনী ফ্লাইট, ফলে কয়েক হাজার যাত্রী ও প্রবাসী অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
তবে এই ভয়াবহ সংকটের মাঝেও মাসকাট ও জেদ্দার মতো কিছু রুটে সালাম এয়ার, বিমান বাংলাদেশ ও ইউএস-বাংলার সীমিত সংখ্যক ফ্লাইট চলাচল করে কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছে। বিশেষ করে জেদ্দা ও মাসকাট থেকে আসা এবং যাওয়ার ফ্লাইটগুলো এখনো কোনোমতে স্বাভাবিক রয়েছে, যা প্রবাসীদের জন্য একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিমানের এই নজিরবিহীন ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা কেবল যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ায়নি, বরং বৈশ্বিক রাজনীতি ও যুদ্ধের প্রভাব কীভাবে সাধারণ মানুষের চলাচলের ওপর আঘাত হানে, তার এক নিদারুণ ছবি ফুটিয়ে তুলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের দোহা বা আবুধাবির মতো ট্রানজিট পয়েন্টগুলো বন্ধ থাকায় আকাশপথে বাংলাদেশের সাথে বিশ্বের যোগাযোগ আজ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইটের এই অনিশ্চয়তা কাটছে না। আপাতত ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইন্সের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তবে আকাশের ডানা কবে পুনরায় পুরোপুরি মুক্ত হবে, সেই উত্তর এখনো অনিশ্চিত।