image

যেমন হতে পারে ২০২৬ সালের বিশ্ব রাজনীতি

শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬
বিদেশী সংবাদ মাধ্যম

নতুন বছরের বিশ্ব রাজনীতি নিয়ে এমনই আভাস দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। যা প্রকাশ হয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। যেমন মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন- এর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ব্রেট এইচ ম্যাকগর্কের মতে, গত কয়েক বছর ধরে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে তেমন উদ্বেগ ছিল না। কিন্তু এ বছর বিষয়টি বৈশ্বিক ভীতির কারণ হতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কেন্দ্রিক প্রতিযোগিতাও আগামী বছর ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে পারে। নতুন বিশ্বব্যবস্থার অন্যতম নির্ধারক হতে পারে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনকারী তাইওয়ান। যেখানে চীন, রাশিয়ার সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রের।

এরই মধ্যে তাইওয়ান ঘিরে বড় আকারের সামরিক মহড়া চালিয়েছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র অঞ্চলটিকে বেইজিংয়ের সঙ্গে পুনরায় একত্র করার ব্যাপারে অঙ্গীকার করেছেন শি জিনপিং। খ্রিষ্টীয় নববর্ষের ভাষণে তিনি বলেছেন, এই একত্রীকরণ ঠেকানো সম্ভব নয়। সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তাঁর দেশ যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইউরোপের সঙ্গে পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধে আছে। তাঁর দাবি, এটি ইরাকের সঙ্গে হওয়া ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সালের যুদ্ধের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক ও জটিল। তারা (যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ) চারদিক থেকে ইরানকে ঘিরে রেখেছে। চাপ সৃষ্টি করছে, বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত করছে এবং সমাজের ভেতরে বিভিন্ন বিষয়ে মানুষের প্রত্যাশা বাড়িয়ে তুলছে।

ইরান এরই মধ্যে নতুন করে গণবিক্ষোভের মুখে পড়েছে। ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রার মূল্য পতন চরমে পৌঁছানোর প্রতিবাদে কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ চলছে। বুধবার রাজধানী তেহরান থেকে তা আরও বেশ কয়েকটি শহরে ছড়িয়ে পড়ে। ব্রেট এইচ ম্যাকগর্কের মতে, ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আরও দুর্বল হতে পারে। গণমাধ্যম ও তথ্য বিশ্লেষণভিত্তিক সংগঠন প্রজেক্ট সিন্ডিকেটের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বছরের ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বৃদ্ধি অর্থনৈতিক মন্দা ও বিভাজন আরও প্রকট করতে পারে। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র আর চীন প্রযুক্তিগত ও সামরিক আধিপত্যের জন্য প্রতিযোগিতা করবে। ইউরোপ চলবে তাল মিলিয়ে।

কানাডার গণমাধ্যম দ্য ব্র্যান্ডন সানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ৭৫ বছর ধরে বিশ্ব ব্যবস্থায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। কিন্তু এখন তারা ‘আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা’ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর কারণ হিসেবে রাজনৈতিক ঝুঁকি বিশ্লেষক ও ইউরেশিয়া গ্রুপের প্রধান ইয়ান ব্রেমার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাই বিশ্বব্যবস্থা থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিতে চায়।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে দীর্ঘদিনের ক্লান্তি যেমন ভর করতে পারে, তেমনি সামনে আসবে বাজেটের বিষয়। কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এতদিন রাশিয়ার অর্থনীতি দ্রুত বেড়েছে। এ কারণে তারা যুদ্ধের ব্যয় ও নাগরিকদের জন্য স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রেখে প্রায় সামঞ্জস্যপূর্ণ বাজেট তৈরিতে সক্ষম হয়। ২০২৫-২৭ সময়কালের বাজেট প্রস্তুতের প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল এই ভারসাম্য বজায় রাখা। কারণ অর্থনীতিতে অতিরিক্ত উত্তাপ দেখা দিতে শুরু করেছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা প্রশমন করতে গিয়ে এমন পদক্ষেপ নেয়, যা ব্যবসায়িক খাতে সমস্যা তৈরি করে।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট এর আগে জানিয়েছিল, বাজেট সংক্রান্ত স্বচ্ছতা কমে যাওয়ার পরও গত বছর রাশিয়ার মোট পরিকল্পিত সামরিক ব্যয় ছিল ১৫.৫ ট্রিলিয়ন রুবলের কাছাকাছি। ওই মাত্রার ব্যয় আপাতদৃষ্টিতে সামাল দেওয়া সম্ভব হলেও, ভবিষ্যতে বাজেটের ওপর চাপ বাড়তে পারে।

দ্য ব্র্যান্ডন সানে প্রকাশিত রাজনীতি বিশ্লেষক কাইল ভলপির পূর্বাভাস অনুযায়ী, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন; আগামী বছর ইউরোপ ও আমেরিকার মধ্যে সম্পর্কে আরও ভাটা পড়বে। ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন একটি জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রকাশ করেছে, যা বিশ্বের বৃহৎ শক্তিগুলোকে বিভক্ত করা, এবং তাদের নিজ নিজ প্রভাবক্ষেত্রের ওপর কর্তৃত্ব বজায়ের ধারণাকে সমর্থন করে। ওয়াশিংটনের নথিতে ইউরোপের উদার গণতন্ত্রকেও ধিক্কার জানানো হয়েছে।

ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি যদি বাস্তবে এমনটা ঘটান তাহলে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের মুখে পড়তে পারে। কিউবার গুপ্তচর থেকে শুরু করে কলম্বিয়ান বিদ্রোহী এবং ভেনেজুয়েলার সরকারপন্থি মিলিশিয়া- সবাই আমেরিকাবিরোধী কাজে যুক্ত হবে। এটি শুরু হলে পশ্চিম গোলার্ধের অবস্থা ভয়াবহ হবে।

অন্যদিকে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর হয়নি। গত ১৩ ডিসেম্বর হামাসের এক জ্যেষ্ঠ নেতাকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল। অক্টোবরে অস্ত্রবিরতিতে পৌঁছানোর পর থেকে তেল আবিবের পরিচালিত ৫০০টিরও বেশি হামলার মধ্যে এটি একটি। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে তাঁর ভঙ্গুর রাজনৈতিক জোটকে টিকিয়ে রাখতে হলে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে।

কাইল ভলপির মতে, ২০২৬ সাল কিছু বৈশ্বিক বিষয়ে গতি দিতে পারে। এর মধ্যে আছে, চীনের বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীলতা এবং বহুপাক্ষিকতার নতুন গ্যারান্টার হিসেবে নিজেকে পুনঃপ্রকাশ করার প্রচেষ্টা। আফ্রিকায় সুযোগের অভাব এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের জন্য জেনারেশন জেডের (জেন জি) নেতৃত্বে বিদ্রোহ যেকোনো মুহূর্তে শুরু হতে পারে।

‘আন্তর্জাতিক’ : আরও খবর

সম্প্রতি