image

মার্কিন নীতির বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিরোধিতা

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতারের মার্কিন সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেই ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই পদক্ষেপকে বহু পর্যায় থেকে "বেআইনি" ও "বিপজ্জনক" বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে।

বার্নি স্যান্ডার্সের তীব্র নিন্দা

ভারমন্টের স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স সোশ্যাল মিডিয়ায় এই অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি একে ‘বেআইনি, বিপজ্জনক, সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনকারী’ পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করেন। স্যান্ডার্স উল্লেখ করেন যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারে ‘আমেরিকা সর্বাগ্রে’ নীতি প্রচার করলেও বর্তমানে ভেনেজুয়েলার শাসনব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোর প্রতি নজর দেওয়ার ও বিদেশে অবৈধ সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানান। স্যান্ডার্স বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কোনও এখতিয়ার নেই একতরফাভাবে দেশকে যুদ্ধের মধ্যে টেনে নিয়ে যাওয়ার। এমনকি নিকোলাস মাদুরোর মতো এক দুর্নীতিবাজ, বর্বর একনায়কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাওয়ারও এখতিয়ার তার নেই।" তিনি কংগ্রেসে দ্রুত একটি যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাবনা পাসেরও দাবি তুলেছেন।

কমলা হ্যারিসের অবস্থান

ডেমোক্র্যাট নেত্রী ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসও ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে ‘বেআইনি’ বলে নিন্দা করেছেন। তার মতে, "ট্রাম্প যা করেছেন, সেটি কখনওই যুক্তরাষ্ট্রকে সুরক্ষিত বা শক্তিশালী করবে না।" হ্যারিসের যুক্তি হলো, মাদুরোকে স্বৈরাচারী ও নিষ্ঠুর শাসক আখ্যা দিলেও তা ভেনেজুয়েলায় এ ধরনের হামলার যৌক্তিকতা তৈরি করে না।

নিউ ইয়র্কের মেয়রের প্রতিক্রিয়া

নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি অভিযানের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন যে ট্রাম্প effectively ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। তার মতে, এভাবে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা নিউ ইয়র্কে বসবাসকারী হাজার হাজার ভেনেজুয়েলীয় নাগরিকসহ বহু মানুষের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি

অন্যদিকে, এই অভিযানের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে ভেনেজুয়েলা থেকে অপরাধীরা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছে, তাই জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে মাদুরোকে সরানো প্রয়োজন ছিল। এছাড়াও, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক সন্ত্রাস চালানোর অভিযোগ তুলেছেন। তবে বিশ্লেষকদের অনেকের মতে, বিশ্বের বৃহত্তম তেল ভাণ্ডারগুলোর একটির অধিকারী ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাই এই পদক্ষেপের একটি প্রধান উদ্দেশ্য হতে পারে।

এই নিয়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতি ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের প্রশ্নে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে।

‘আন্তর্জাতিক’ : আরও খবর

সম্প্রতি