জাতিসংঘ জানিয়েছে, বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো পর্যবেক্ষক পাঠানোর পরিকল্পনা নেই। সোমবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ যেন তাদের রাজনৈতিক মতামত অবাধে প্রকাশ করতে পারে, সেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে জাতিসংঘ সমর্থন করে যাবে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করাকে জাতিসংঘ গুরুত্বপূর্ণ মনে করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, জাতিসংঘ সাধারণত নিজ উদ্যোগে কোনো দেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠায় না। নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত কেবল তখনই নেওয়া হয়, যখন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ অথবা নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ম্যান্ডেট দেওয়া থাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ জাতিসংঘের কার্যক্রমের আওতায় নেই বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
স্তেফান দুজারিক বলেন, বর্তমানে জাতিসংঘের কোনো পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা নেই। তবে তিনি জানান, বাংলাদেশে জাতিসংঘের কার্যালয় নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকে কি না, সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘ নিয়মিতভাবে কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহলে আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সরাসরি নির্বাচন পর্যবেক্ষণের কোনো উদ্যোগ না থাকার বিষয়টি এদিনের ব্রিফিংয়ে স্পষ্টভাবে জানানো হয়।
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও একাধিক প্রশ্ন ওঠে। এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফেরার প্রসঙ্গ উত্থাপন করা হয়। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রেক্ষাপটে তার প্রত্যাবর্তনকে জাতিসংঘ কীভাবে দেখছে—এমন প্রশ্নের জবাবে স্তেফান দুজারিক বলেন, তিনি সংবাদ বা রাজনৈতিক ঘটনার কোনো মূল্যায়ন করেন না। রাজনৈতিক ও সংবাদ বিশ্লেষণের দায়িত্ব সাংবাদিকদের বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক বলেন, তার মৃত্যুতে জাতিসংঘ তার পরিবারের প্রতি এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে। তিনি বলেন, এ শোকের সময়ে জাতিসংঘ বাংলাদেশের মানুষের পাশে রয়েছে।
সব মিলিয়ে ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয় যে, বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে কোনো জাতিসংঘ পর্যবেক্ষক পাঠানোর পরিকল্পনা নেই। তবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং প্রয়োজনে কারিগরি সহায়তার বিষয়ে জাতিসংঘের অবস্থান আগের মতোই সমর্থনমূলক থাকবে বলে জানানো হয়।