যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন এলাকা প্রবল ঝড়ের কবলে পড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। শক্তিশালী এ ঝড়ের নাম ‘গোরটি’। আটলান্টিক থেকে ধেয়ে আসা এই ঝড় ও ভারী তুষারপাতে দেশটির অনেক কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অফিস একে ‘মাল্টি-হ্যাজার্ড ওয়েদার বম’ বা বহুমুখী বিপজ্জনক তুষার বোমা হিসেবে অভিহিত করেছে। দক্ষিণ উপকূলে আছড়ে পড়া এই ভয়াবহ ঝড়ের কারণে জারি করা হয়েছে বিরল ‘রেড ওয়ার্নিং’ বা প্রাণহানির সতর্কতা।
ঝড়টি ঘণ্টায় রেকর্ড ৯৯ মাইল বেগে ধেয়ে এসেছে যুক্তরাজ্যের দিকে রেকর্ড করা হয়েছে, যা এই অঞ্চলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ঝড়ের তীব্রতায় শত বছরের পুরোনো গাছ উপড়ে পড়েছে এবং বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্নওয়াল ও ডেভনসহ দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকাগুলোতে উড়ন্ত ধ্বংসাবশেষের আঘাতে মানুষের জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
তুষারপাত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে গতকাল শুক্রবার শত শত স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শুধুমাত্র শ্রপশায়ারেই ৬০টির বেশি স্কুল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া ওয়েলস, ওয়ারউইকশায়ার, পাউইস এবং ব্রিজেন্ডসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় সরাসরি পাঠদান স্থগিত করা হয়েছে। তুষারপাতের কারণে স্কুল বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অভিভাবকদের নিয়মিত ওয়েবসাইট চেক করার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। ভারী তুষারপাতের কারণে বার্মিংহাম বিমানবন্দরের রানওয়েতে বিমান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে শুক্রবার সকালের বহু ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। জার্সি এবং গার্নসি বিমানবন্দরগুলোও ঝড়ের কবলে পড়ে অচল হয়ে আছে। ডেভন ও কর্নওয়ালকে সংযোগকারী বিখ্যাত ‘টামার ব্রিজ’ সব ধরনের যানবাহনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উত্তরের দুর্গম পাহাড়ি রাস্তাগুলোতে তুষারের স্তূপ জমে যাওয়ায় অনেক এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ন্যাশনাল গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত অন্তত ৭০ হাজার ঘরবাড়ি বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ পড়ে এই বিপর্যয় ঘটেছে। উদ্ধারকারী দল হাড়কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তুষারে আটকে পড়া গাড়ি থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৫০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। অনেকে ৩০ সেন্টিমিটার পুরু তুষারের নিচে আটকা পড়েছিলেন।
আবহাওয়াবিদদের মতে, ২০১০ সালের পর অর্থাৎ গত ২০ বছরের মধ্যে যুক্তরাজ্য এমন ভয়াবহ তুষারপাত ও বাতাসের সম্মিলিত তাণ্ডব দেখেনি। এই দুর্যোগে প্রাথমিকভাবে অন্তত ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ডের (প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা) বেশি আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ শুক্রবারও উত্তর ও মধ্য ইংল্যান্ডে ভারী তুষারপাত অব্যাহত থাকবে। তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে থাকায় রাস্তাঘাট অত্যন্ত পিচ্ছিল ও বিপজ্জনক হয়ে আছে।