মার্কিন কর্মকর্তারা গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদের প্রলুব্ধ করতে তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার থেকে শুরু করে এক লাখ ডলার পর্যন্ত ‘ঘুষ দেয়ার’ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছেন। বাসিন্দাদের টাকা পাঠিয়ে ডেনমার্কের এই অঞ্চলটি নিজেদের করে নেয়ার এমন চিন্তাভাবনাতেই বোঝা যাচ্ছে ওয়াশিংটন । এ থেকে বোঝা যায় ৫৭ হাজার জনসংখ্যার দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের দখল পেতে কতটা মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র । যদিও কোপেনহেগেন ও নুকের (গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী) কর্মকর্তারা বারবারই মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা বলছেন, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়।
কেবল সরাসরি মোটা অঙ্কের টাকা পাঠানোই নয়, খনিজসমৃদ্ধ দ্বীপটি অধিগ্রহণে হোয়াইট হাউজ নানান কৌশল নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যার মধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করার মতো বিকল্পও রয়েছে।
কয়েকদিন আগে ভেনেজুয়েলা থেকে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন সেনারা তুলে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর পর থেকে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্বজুড়েই ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা চলছে।
গ্রিনল্যান্ডবাসীরা ডেনমার্ক থেকে স্বাধীন হতে ব্যাপক আগ্রহী হলেও তারা যে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনেও যেতে চায় না তা ইতোমধ্যেই একাধিক জনমত জরিপে উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে আগ্রাসন চালালে ডেনমার্কের সেনাদের ‘আগে গুলি, পরে প্রশ্ন’ এমন নির্দেশ দেয়া আছে, ডেনিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমন হুঁশিয়ারির পর এ খবর পাওয়া গেল। আর্কটিকের এই ডেনিশ অঞ্চলটি দখলে নেয়ার চেষ্টা করলে ডেনমার্কের সৈন্যরা ঊর্ধ্বতন কমান্ডারদের নির্দেশের অপেক্ষা না করেই যুদ্ধে নেমে পড়বে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ডেনমার্কের এমন হুঁশিয়ারির পরপরই ট্রাম্প প্রশাসনের এমন ভাবনার খবর পাওয়া গেল।
হোয়াইট হাউজের আলাপ-আলোচনা সম্বন্ধে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্প সামরিক অভিযান চালালে তা মার্কিন নেতৃত্বাধীন নেটো জোটেও বড় ধরনের ফাটল তৈরি করবে বলে অনেকে মনে করছেন। ইউরোপের প্রভাবশালী অনেক দেশের নেতারা এর মধ্যেই গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে ডেনমার্কের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।
এসবের মধ্যেই রয়টার্সে গ্রিনল্যান্ডবাসীদের ঘুষ হিসেবে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত দেয়ার ট্রাম্প প্রশাসনের ভাবনার খবর এলো। তার আগের দিনই ডেনিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে আগ্রাসন চালালে ডেনমার্কের সেনাদের ‘আগে গুলি, পরে প্রশ্ন’ এমন নির্দেশ দেয়া আছে।
১৯৫২ সালে করা তাদের সেনাবাহিনীর নিয়ম অনুযায়ী, ঊর্ধ্বতন কমান্ডের নির্দেশ ছাড়াই সেনারা যে কোনো দখলদারদের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে পারবে। ওই নিয়ম এখনও বলবৎ আছে, যুক্তরাষ্ট্র কোনো অভিযান চালালে কী নির্দেশনা ডেনিশ খবরের কাগজ বার্লিংসকের করা প্রশ্নের জবাবে এমনটাই বলে মন্ত্রণালয়।
গ্রিনল্যান্ড দখলে নিতে ট্রাম্প নতুন করে চাপ সৃষ্টির পর এ মন্তব্য আসে। এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, আর্কটিকের দ্বীপটি কব্জায় নিতে যত বিকল্প আছে তার মধ্যে ‘সামরিক বাহিনীকে’ ব্যবহারের বিকল্পও হাতে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তায় ‘দ্বীপটি প্রয়োজন’, সাংবাদিকদের ট্রাম্প এমনটা বলার পরপরই ফেইসবুকে দেয়া এক পোস্টে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইন্স ফ্রেদেরিক নিলসেন বলেছেন, ‘যথেষ্ট হয়েছে। অধিগ্রহণ নিয়ে আর ফ্যান্টাসি নয়।’
ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ড আক্রমণ করে, তবে ডেনিশ সেনারা ‘আগে গুলি চালাবে এবং পরে প্রশ্ন করবে’। ডেনিশ সংবাদপত্র বার্লিংস্কে এই নিয়মের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে দেয়, এই নির্দেশ এখনও ‘বলবৎ’। গত মঙ্গলবার ইউরোপীয় নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের আঞ্চলিক অখ-তাকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে। গত সোমবার ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডে যে কোনো মার্কিন আক্রমণের অর্থ হবে ন্যাটো জোটের সমাপ্তি এবং ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে প্রতিষ্ঠিত নিরাপত্তার অবসান’।
ট্রাম্পের যুক্তি হলো, আর্কটিক অঞ্চলে চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বের বৃহত্তম এই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা প্রয়োজন।
ইরানকে নরক দেখানোর হুমকি দিলেন ট্রাম্প
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে সহিংস অভিযান চলার মধ্যে আবারও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তাহলে দেশটিকে নরক দেখতে হবে। সাম্প্রতিক সহিংস দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ?্যম দ্যা টাইমস অব ইসরায়েল এ খবর জানিয়েছে।
ইরানের শাসকগোষ্ঠীকে সতর্ক করে ট্রাম্প বলেছেন, শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তায় নামা মানুষের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার করলে তার ভয়াবহ পরিণতি হবে।
দ্যা টাইমস অব ইসরায়েল প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি ইরানের বিভিন্ন শহরে ইসলামী প্রজাতন্ত্রবিরোধী বিক্ষোভ জোরালো আকার নিয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সংকট এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর আচরণে ক্ষুব্ধ জনগণ রাস্তায় নেমে স্বাধীনতা ও শাসন পরিবর্তনের দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন। এর জবাবে ইরান সরকার ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সীমিত করেছে এবং কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
পূর্বে ট্রাম্প একাধিকবার ইরান সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের দমন করতে গিয়ে যদি হত্যাকা- চালানো হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র চুপ থাকবে না। সর্বশেষ মন্তব্যে তিনি আবারও একই সুরে কথা বলে জানিয়েছে, ইরানি জনগণের ওপর সহিংসতা চালালে তার কঠিন মূল্য দিতে হবে তেহরানকে।
ইরান সরকার অবশ্য বরাবরের মতোই বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সরকার বলেছে, দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের কোনো হস্তক্ষেপ তারা মেনে নেবে না।