যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো তেহরানের ‘বৈধ নিশানায়’ পরিণত হবে বলে হুঁশিয়ার করেছে ইরান। ইরানে বিক্ষোভে সমর্থন জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে ওয়াশিংটন হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে নিয়মিতেই আভাস দিয়ে যাচ্ছেন। সর্বশেষ গতকাল শনিবার রাতেও তিনি লিখেছেন, ‘ইরান স্বাধীনতার দিকে তাকিয়ে আছে, যেমনটা সম্ভবত আগে কখনোই হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করতে প্রস্তুত।’
এর প্রতিক্রিয়ায় রোববার, (১১ জানুয়ারী ২০২৬) ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ ‘হামলা হলে পাল্টা জবাবের’ এ হুঁশিয়ারি দিলেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এমন এক সময়ে কালিবাফের এ মন্তব্য এলো যখন ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপ নিয়ে ইসরায়েল সতর্কাবস্থায় রয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে। রয়টার্স জানায়, তাদের সূত্রগুলো গতকাল শনিবার ইসরায়েলের নিরাপত্তাসংক্রান্ত এক আলোচনায় উপস্থিত থাকলেও এ ‘উচ্চ সতর্কাবস্থার’ মানে কী তা বিস্তারিতভাবে জানায়নি।
গত বছরের জুনে ইসরায়েল ও ইরান ১২ দিনের এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জড়িয়েছিল। এই লড়াইয়ে ইসরায়েলের পক্ষ হয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলাও চালায়।
ইসরায়েলি একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইরানে সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ নিয়ে গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ফোনালাপ হয়েছে। মার্কিন এক কর্মকর্তাও নেতানিয়াহু-রুবিও আলোচনার খবর নিশ্চিত করেছেন। তবে তাদের মধ্যে কী নিয়ে কথা হয়েছে তা জানাননি তিনি। লাগামহীন মূল্যস্ফীতির কারণে সপ্তাহ দুয়েক আগে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এরইমধ্যে ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত তাতে হস্তক্ষেপ করার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি ইসরায়েল। তেহরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে ইসরায়েলের উদ্বেগের কারণে দুই আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
গত শুক্রবার ইকোনমিস্টে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরান যদি ইসরায়েলে আক্রমণ করে তবে দেশটিকে মারাত্মক পরিণতি ভোগ করতে হবে।
চলমান প্রতিবাদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, বাকি সবকিছুর সঙ্গে আমাদের দেখা উচিত ইরানের ভেতরে কী ঘটছে।’