image

বিক্ষোভের মুখে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করলো ইরান

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

ইরানের সরকারবিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়ে গ্রেফতার ২৬ বছর বয়সি তরুণ এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছে দেশটির সরকার। পরিবারের সদস্য এবং মানবাধিকার সংস্থার বরাতে এ খবর জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস ও সিএনএন।

গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) কারাজ শহরের রাস্তায় আরও অনেকের সঙ্গে বিক্ষোভ করছিলেন পোশাক শিল্পে কর্মরত এরফান সোলতানি। এ সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়। দ্রুত বিচারে তার ফাঁসির রায় দেয়া হয়।

সিএনএনের প্রতিবেদন মতে, মাত্র তিনদিনের বিচার শেষে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ায় সোলতানির পরিবারের কোনো স্বজন কিংবা বন্ধুকে উপস্থিত থাকতে দেয়া হয়নি। সোলতানির বোন একজন নিবন্ধিত ও পেশাদার আইনজীবী। তিনিও থাকতে পারেননি।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা ছিল। এজন্য শেষবারের জন্য পরিবারের সঙ্গে দেখা ও বিদায় জানানোর সুযোগ দেয়া হয়েছিল। তবে এদিন শেষ মুহূর্তে এসে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানের ৩১টি প্রদেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ দমনে তেহরান কঠোর অভিযান চালিয়েছে এবং এতে নিহতের সংখ্যা ৫০০ থেকে ২ হাজারের মধ্যে হতে পারে।

গত বুধবার দেশটির প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই ‘দাঙ্গাকারীদের’ দ্রুত বিচার এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আহ্বান জানান। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘যারা রাস্তায় মানুষের শিরশ্ছেদ করেছে বা জীবন্ত পুড়িয়েছে তাদের বিচার করা উচিত এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শাস্তি দেয়া উচিত। আমরা যদি এটি দ্রুত না করি, তবে এর প্রভাব একই রকম হবে না।’

তবে মানবাধিকার গোষ্ঠী এবং এরফানের পরিবারের সদস্যদের মতে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য নির্ধারিত প্রথম প্রতিবাদী এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা হয়েছে। এই খবরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। যিনি ইরান বিক্ষোভকারীদের হত্যা করলে ‘কঠোর পদক্ষেপ’ নেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।

তিনি বুধবার বিকেলে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘অপর পক্ষের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র থেকে আমাদের জানানো হয়েছে: হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়ে গেছে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে না।’

এরফানের পরিবারের এক দূরসম্পর্কিত আত্মীয় সুমাইয়ার মতে, এরফান সোলতানির বাবা-মা যখন আলবোর্জ প্রদেশের ঘেজেল হেসার কারাগারে যান তখন তারা খবরটি পান। নরওয়ে ভিত্তিক হেঙ্গাও অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসও সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে বলেছে, তারা এরফান সোলতানির আত্মীয়দের কাছ থেকে জানতে পেরেছে যে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচিও জানিয়েছেন যে, সরকারের বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ইচ্ছা বা পরিকল্পনা নেই। বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেয়ার এই দাবিকে তিনি ‘ট্রাম্পকে সংঘাতে জড়ানোর উসকানি’ দেয়ার জন্য ভুয়া তথ্য প্রচারণার অংশ বলে অভিহিত করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তিনি কোনো বিক্ষোভকারীর ফাঁসি দেয়ার পরিকল্পনার কথা শোনেননি। বলেন, ‘ফাঁসি দেয়ার প্রশ্নই আসে না’।

‘আন্তর্জাতিক’ : আরও খবর

সম্প্রতি

Sangbad Image

অর্থ-বাণিজ্য: স্বর্ণের দামে বড় পতন