বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতিতে এক অভাবনীয় পরিবর্তন এনে চীনের সঙ্গে একটি বিশেষ বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে কানাডা। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি শুক্রবার বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এক দীর্ঘ বৈঠকের পর এই ঐতিহাসিক ঘোষণা প্রদান করেন।
এই চুক্তির ফলে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য উত্তেজনা হ্রাসের পাশাপাশি উত্তর আমেরিকার দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ বাণিজ্য অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন বা ফাটল দেখা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই চুক্তির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বৈদ্যুতিক গাড়ি বা ইভি এবং কৃষি পণ্য। চুক্তির শর্তানুসারে, কানাডা তাদের বাজারে চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর আরোপিত ১০০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করতে সম্মত হয়েছে। এর পরিবর্তে এখন থেকে বছরে নির্দিষ্ট কোটা অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে ৪৯ হাজার গাড়ি মাত্র ৬ দশমিক ১ শতাংশ শুল্কে কানাডার বাজারে প্রবেশের অনুমতি পাবে। এর বিনিময়ে চীনও কানাডিয়ান কৃষি পণ্যের ওপর থেকে বড় ধরনের বাণিজ্যিক বাধা সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিশেষ করে কানাডিয়ান ক্যানোলা বীজের ওপর আরোপিত প্রায় ৮৪ থেকে ৮৫ শতাংশ উচ্চ শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। এর ফলে কানাডার কৃষকরা প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত রপ্তানি সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ক্যানোলার পাশাপাশি কানাডিয়ান লবস্টার, কাঁকড়া ও মটরশুঁটির ওপর থেকেও বিভিন্ন বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ অপসারণ করবে বেইজিং।
কানাডার এই আকস্মিক পদক্ষেপকে পশ্চিমা বাণিজ্য জোট, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতি থেকে এক বড় ধরনের বিচ্যুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতদিন কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের সুরক্ষাবাদী নীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চীনের ওপর কঠোর শুল্ক বজায় রেখেছিল।
তবে বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি নিজের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় কানাডার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য এবং পূর্বানুমেয় বাণিজ্যিক অংশীদার প্রয়োজন। এই সমঝোতা কানাডার অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে বৈদ্যুতিক গাড়ি পাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার বাণিজ্যিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক অস্থিরতাই মূলত অটোয়াকে বেইজিংয়ের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করেছে।