image

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের শুল্ক আরোপকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলেছেন ইউরোপের নেতারা

সংবাদ ডেস্ক

আট দেশের ওপর ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ঘোষণার নিন্দা জানিয়েছেন ইউরোপের নেতারা। এই আট দেশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের ঘোষণার বিরোধিতা করেছিল। গতকাল শনিবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো সবধরনের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এ শুল্ক কার্যকর হবে, যা পরে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে এবং কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত শুল্ক প্রযোজ্য থাকবে।

ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড। ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য এ অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ তার চাই। তিনি শক্তি প্রয়োগ করে গ্রিনল্যান্ড দখলের সম্ভাবনাকে বাতিল করেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের অধিগ্রহণ প্রস্তাবের প্রতিবাদে রোববার, (১৮ জানুয়ারী ২০২৬) গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কে হাজার হাজার মানুষ সড়কে নামেন। গ্রিনল্যান্ডে জনসংখ্যা কম, কিন্তু দ্বীপটি প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ। উত্তর আমেরিকা ও আর্কটিক অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ক্ষেত্রে প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থা স্থাপন এবং ওই অঞ্চলে জাহাজ পর্যবেক্ষণের জন্য এটি সুবিধাজনক। এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ‘হয় সহজ পথে, অথবা কঠিন পথে’ গ্রিনল্যান্ডের দখল নেবেন। গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে ইউরোপের দেশগুলো ডেনমার্ককে সমর্থন দিয়েছে। তাদের যুক্তি, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তার দায়িত্ব সম্মিলিতভাবে ন্যাটোর ওপর ছেড়ে দেয়া উচিত। গত বৃহস্পতিবার ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্য গ্রিনল্যান্ডে কিছু সৈন্য পাঠিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ পদক্ষেপকে (শুল্ক আরোপ) ‘সম্পূর্ণ ভুল’ বলেছেন। আর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ একে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন। স্টারমার বলেন, ‘ন্যাটো মিত্রদের যৌথ নিরাপত্তা রক্ষার জন্য মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপ করা সম্পূর্ণ ভুল। আমরা অবশ্যই এটি নিয়ে সরাসরি মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করবো।’

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ বলেছেন, ‘এ পরিস্থিতিতে শুল্কের হুমকি অগ্রহণযোগ্য কোনো ভয়-ভীতিতে আমরা প্রভাবিত হব না।’

সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন বলেন, ‘আমরা নিজেদের জিম্মি হতে দেব না। যৌথ প্রতিক্রিয়া খুঁজতে সুইডেন বর্তমানে অন্যান্য ইউরোপীয় দেশ, নরওয়ে ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে নিবিড়ভাবে আলোচনা করছে।’

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইনের প্রতিরক্ষায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন সবসময় দৃঢ় অবস্থানে থাকবে, শুরুটা হবে অবশ্যই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর ভূমি থেকে।’

ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন বলেন, ‘এ হুমকি আচমকা এসেছে।’

জার্মান এমইপি (মেম্বার অব ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট) মানফ্রেড ওয়েবার বলেন, ট্রাম্পের পদক্ষেপ গত বছর আলোচনা হয়েছে কিন্তু এখনও অনুমোদন পায়নি, এমনটি ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। ওয়েবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে কনজারভেটিভ ইপিপি গ্রুপের প্রধান।

ব্রাসেলস ও ওয়াশিংটন এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছেছিল, যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সব পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ মার্কিন শুল্ক আরোপ করা হবে। এছাড়া ২৭ সদস্যের ইইউ মার্কিন রপ্তানিকারকদের জন্য নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর শূন্য শতাংশ শুল্কে নিজেদের বাজার খুলে দেবে।

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ অবশ্য বলেছেন, ‘উত্তরাঞ্চলে (নর্দান রিজন) যা করতে হবে তা করার জন্য যথেষ্ট সম্পদ বা সক্ষমতা ডেনমার্কের হাতে নেই।’ ওয়াল্টজ ফক্স নিউজকে বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডের মানুষের জীবন যুক্তরাষ্ট্রের ছাতার তলায় আরও নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ হবে।’ জরিপে দেখা যাচ্ছে, গ্রিনল্যান্ডের ৮৫ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হতে চান না। নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা আসার আগে ট্রাম্পের দখল পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ডেনমার্কের শহরগুলো ও গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী ন্যুকে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘গ্রিনল্যান্ড থেকে হাত সরাও’ এবং ‘গ্রিনল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডবাসীর।’

‘আন্তর্জাতিক’ : আরও খবর

সম্প্রতি