বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বি১/বি২ (ব্যবসা ও পর্যটন) ভিসা অনুমোদনের ক্ষেত্রে ‘ভিসা বন্ড’ কার্যকর হতে যাচ্ছে।
আগামী বুধবার থেকে এই শর্ত কার্যকর হবে। আজ সোমবার ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এক জরুরি বার্তায় এই তথ্য জানিয়েছে।
বার্তায় জানানো হয়, এখন থেকে যারা এই ক্যাটাগরির ভিসার জন্য অনুমোদিত হবেন, তাদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা) পর্যন্ত একটি ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত জমা দিতে হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পাইলট কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশসহ আরও ৩৭টি দেশের ওপর এই নিয়ম আরোপ করা হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান বা ‘ওভারস্টে’ রোধ করা।
মার্কিন দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, এই ভিসা বন্ডের পরিমাণ মূলত ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলার হতে পারে, যা ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় কনসুলার কর্মকর্তা নির্ধারণ করবেন। আবেদনকারীকে এই জামানত মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘Pay.gov’ এর মাধ্যমে জমা দিতে হবে এবং সেই সঙ্গে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ‘আই-৩৫২’ (I-352) ফরমটিও পূরণ করতে হবে।
তবে দূতাবাস বিশেষভাবে সতর্ক করে দিয়েছে যে, কোনো আবেদনকারী যেন সাক্ষাৎকারের আগে বা কনসুলার কর্মকর্তার নির্দেশ ছাড়া কোনো অর্থ পরিশোধ না করেন। আগাম অর্থ পরিশোধ ভিসা পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা দেয় না এবং তৃতীয় কোনো ওয়েবসাইট বা পক্ষের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করলে তা প্রতারণামূলক হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বার্তায় আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করবেন এবং ভিসার কোনো শর্ত লঙ্ঘন করবেন না, তারা দেশত্যাগের পর এই বন্ডের অর্থ পুরোপুরি ফেরত পাবেন। তবে যদি কেউ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সেখানে অবস্থান করেন বা শর্ত ভঙ্গ করেন, তবে এই জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হবে। এই নতুন নিয়মটি কেবল ২১ জানুয়ারি বা তার পরে ইস্যু করা নতুন ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হব, অর্থাৎ যাদের কাছে ইতিমধ্যে বৈধ বি১/বি২ ভিসা রয়েছে, তাদের ভ্রমণের জন্য বাড়তি কোনো বন্ড দিতে হবে না।