image

ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষা করতে পারবে না: ট্রাম্প

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চলতি সপ্তাহে দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে গ্রিনল্যান্ড কেনা নিয়ে কথা বলবে, কারণ ডেনমার্ক এই দ্বীপ অঞ্চলটিকে রক্ষা করতে পারবে না। গতকাল সোমবার ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমাদের এটা পেতেই হবে। তাদের এটা করতে হবে। ডেনমার্ক, তারা চমৎকার লোকজন হলেও তারা এটি রক্ষা করতে পারবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি নেতাদের (ডেনমার্কের) চিনি। তারা খুব ভালো মানুষ। কিন্তু তারা সেখানে (গ্রিনল্যান্ডে) যানও না।’

ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের যে আটটি ন্যাটো মিত্র দেশ তার এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করছে, ফেব্রুয়ারি (আগামী) থেকে তাদের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্কারোপ করা হবে, যা জুন নাগাদ ২৫ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

ট্রাম্পের এই আচরণকে ইউরোপের অনেক নেতা ‘ব্ল্যাকমেইল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে ট্রাম্প বলছেন, তিনি শুল্কাারোপের পদক্ষেপ ১০০ ভাগই বাস্তবায়ন করবেন।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড দখল করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য জরুরি। সম্পদসমৃদ্ধ এই দ্বীপটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শনাক্ত করার জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। তিনি ডেনমার্কের কাছ থেকে এটি কিনে নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন এবং এ প্রস্তাবে রাজি না হলে ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্র হওয়ার পরও ডেনমার্কের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনার হুমকি দিয়েছেন।

ট্রাম্প গত শনিবার গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিরোধিতা করা ডেনমার্ক, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও নরওয়ের পণ্যে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ শতাংশ শুল্ক আলোপের ঘোষণা দেন। যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড কেনা পর্যন্ত এ শুল্ক থাকবে বলেও তিনি জানান। যে ৮ দেশের পণ্যের ওপর ট্রাম্প ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন শুল্কারোপের কথা বলছেন, তারা আগে থেকেই ১০-১৫ শতাংশ মার্কিন শুল্কের মধ্যে রয়েছে। ডেনমার্কের বিস্তৃত আর্কটিক দ্বীপটি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মতবিরোধের পর এই দেশগুলো গ্রিনল্যান্ডে সীমিত আকারে সেনাও পাঠিয়েছে।

গত রোববার নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক বার্তায় ট্রাম্প ডেনমার্কের মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, ‘রাশিয়া বা চীনের হাত থেকে ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষা করতে পারবে না।’

তিনি বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডের ওপর তাদের (ডেনমার্ক) মালিকানার অধিকার কেন থাকবে? এ নিয়ে কোনো লিখিত দলিল নেই। কয়েকশ’ বছর আগে একটি নৌকা সেখানে ভিড়েছিল বলেই কি মালিকানা হয়ে যায়? আমাদের নৌকাও তো সেখানে ভিড়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ন্যাটো প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনি এই জোটের জন্য অন্য যে কারও চেয়ে বেশি কাজ করেছেন এবং এখন ন্যাটোর উচিত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কিছু করা।

ট্রাম্পের কারণে কি যুক্তরাষ্ট্র-ইইউর শুল্কযুদ্ধ লেগে যেতে পারে

গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক হুমকি এবং এর বিরুদ্ধে ইউরোপের সম্ভাব্য পাল্টা ব্যবস্থার ফলে উভয়পক্ষে পণ্য আমদানি খরচ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে। এ লড়াই দুই পক্ষের অর্থনীতিকেই দুর্বল করে দিতে পারে। এখন পর্যন্ত গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কোনো পক্ষই ছাড় দেয়ার মনোভাব দেখাচ্ছে না। বরং ইউরোপের আটটি দেশের ওপর ট্রাম্পের শুল্কারোপের ঘোষণা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উত্তেজক পর্যায়ে নিয়ে নিয়ে গেছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ বৈঠকে বারবার ইউরোপীয় ইউনিয়নকে তাদের ‘অ্যান্টি-কোয়ারশন ইনস্ট্রুমেন্ট’ কার্যকর করার আহ্বান জানান, যা সাধারণভাবে ‘ট্রেড বাজুকা’ নামে পরিচিত।

ট্রাম্প গত শনিবার ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন ও যুক্তরাজ্য থেকে আসা সব পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্কারোপের ঘোষণা দেন। নতুন এ শুল্ক আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে কোনো চুক্তিতে উপনীত হতে না পারলে আগামী ১ জুন থেকে শুল্ক ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে।

ট্রাম্পের শুল্কারোপের ঘোষণার পরদিন গত রোববার ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিনিধিদের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ বৈঠকে বারবার ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) তাদের ‘অ্যান্টি-কোয়ারশন ইনস্ট্রুমেন্ট’ কার্যকর করার আহ্বান জানান, যা সাধারণভাবে ‘ট্রেড বাজুকা’ নামে পরিচিত।

এই ট্রেড বাজুকা যুক্তরাষ্ট্রের কিছু পণ্যের ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশ নিষিদ্ধ বা রপ্তানির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে, পাশাপাশি আরও বিস্তৃত ধরনের সম্ভাব্য পাল্টা ব্যবস্থার সুযোগও রয়েছে।

ট্রাম্পের হুমকির মুখে গ্রিনল্যান্ডে অতিরিক্ত সেনা পাঠিয়েছে ডেনমার্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির মুখে সেখানে অতিরিক্ত সেনা পাঠিয়েছে ডেনমার্ক। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত বিশাল এ অঞ্চলটি দখলে অনড় ডনাল্ড ট্রাম্প। তার এ অবস্থানকে কেন্দ্র করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ডেনমার্কের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম ডিআর ও অন্যান্য সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, সোমবার (গতকাল) সন্ধ্যায় ডেনমার্কের সেনাপ্রধান পিটার বয়সেনের নেতৃত্বে একদল সেনা গ্রিনল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলীয় কাঙ্গারলুসুয়াকে পৌঁছেছেন।

সংবাদ মাধ্যম টিভি-২ জানায়, নতুন করে সেখানে ৫৮ জন সেনা পাঠানো হয়েছে। তারা আগে থেকেই সেখানে অবস্থানরত ৬০ জন ডেনিস সেনার সঙ্গে যোগ দেবেন। তারা বর্তমানে ‘অপারেশন আর্কটিক এনডিউরেন্স’ নামক একটি বহুজাতিক সামরিক মহড়ায় অংশ নিচ্ছেন।

গতকাল সোমবার এনবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিষয়টি উড়িয়ে দেননি। বলপ্রয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে বলেন, ‘কোনো মন্তব্য নেই।’

ডেনমার্ক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয় এবং কোনো ধরনের বলপ্রয়োগের চেষ্টা করা হলে তা ন্যাটো জোটের অবসান ঘটাবে। ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যে কোনো সদস্যদেশের ওপর আক্রমণের অর্থ পুরো জোটের ওপর আক্রমণ।

মাখোঁর ওপর ক্ষেপলেন ট্রাম্প, ফরাসি ওয়াইনে ২০০% শুল্কারোপের হুমকি

নিজের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদে ফ্রান্সকে যুক্ত করতে এবার ভিন্ন কৌশল নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তার এই উদ্যোগে যোগ দিতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁকে বাধ্য করতে দেশটির ওয়াইন ও শ্যাম্পেইনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্কারোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই হুঁশিয়ারি দেন।

বিশ্বজুড়ে চলমান বিভিন্ন যুদ্ধ ও সংঘাত নিরসনের লক্ষ্য নিয়ে ট্রাম্প এই ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন।

এমানুয়েল মাখোঁ এই বোর্ডে যোগ দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেনÑ একজন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বিদ্রুপ করে বলেন, ‘তিনি (মাখোঁ) কি তাই বলেছেন? আসলে কেউ তাকে এই বোর্ডে চায় না। কারণ খুব শিগগিরই তিনি ক্ষমতা থেকে বিদায় নিচ্ছেন।’

এরপরই শুল্কের হুমকি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ফরাসি ওয়াইন আর শ্যাম্পেইনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক বসাবো। তখন দেখবেন তিনি ঠিকই যোগ দেবেন। অবশ্য তাকে যোগ দিতেই হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।’

ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, ফ্রান্স আপাতত ট্রাম্পের এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড দখল বা ফরাসি পণ্যে উচ্চ শুল্কারোপের মতো একের পর এক আক্রমণাত্মক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ট্রাম্প ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে খাদের কিনারায় ঠেলে দিচ্ছেন।

‘আন্তর্জাতিক’ : আরও খবর

সম্প্রতি