image
ছবিঃ সংগৃহীত

গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ৩ সাংবাদিকসহ ১১ জন নিহত

বিদেশী সংবাদ মাধ্যম

গাজায় গতকাল বুধবার ভোর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুটি শিশু ও তিনজন সাংবাদিক রয়েছেন। এদিন পৃথক হামলায় আরও অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল–বুরশ আল–জাজিরাকে বলেন, বৃহস্পতিবার, (২২ জানুয়ারী ২০২৬) যাঁদের গাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে এবং যাঁরা নিহত হয়েছেন, তাঁরা সবাই ফটোসাংবাদিক ছিলেন। তাঁরা গাজার জন্য মিসরের ত্রাণ কার্যক্রম তদারককারী সংস্থা ‘ইজিপশিয়ান কমিটি ফর গাজা রিলিফ’–এর হয়ে কাজ করতেন। নিহত তিন ফটোসাংবাদিক হলেন আনাস ঘুনাইম, আবদুল রাউফ শাথ ও মোহাম্মদ কেশতা।

সহকর্মী ও চিকিৎসা কর্মকর্তাদের বরাতে আল–জাজিরা জানায়, মধ্য গাজার নেতজারিম করিডরের কাছে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতির তথ্য সংগ্রহ করছিলেন তাঁরা। এ সময় ইসরায়েল তাঁদের ওপর হামলা চালায়। গাজায় থাকা আল-জাজিরার প্রতিনিধিদল জানিয়েছে, ওই হামলায় চতুর্থ আরেক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, সড়কের পাশে তাঁদের পুড়ে যাওয়া ও বোমায় বিধ্বস্ত গাড়িটি পড়ে আছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে তখনো ধোঁয়া উঠছিল।

কমিটির মুখপাত্র মোহাম্মদ মানসুর বলেন, সাংবাদিকেরা বাস্তুচ্যুতদের জন্য তৈরি নতুন একটি আশ্রয়শিবিরের ছবি তুলছিলেন। ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে ওই হামলা হয়েছে। যে গাড়িতে হামলা হয়েছে, সেটি যে মিসরীয় কমিটির মালিকানাধীন, তা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর জানা ছিল।

ইসরায়েলি আর্মি রেডিও ইসরায়েলি নিরাপত্তাসূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেছে, ইসরায়েলি বিমানবাহিনী মধ্য গাজায় একটি গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

তাদের দাবি, গাড়ির যাত্রীরা সেনাবাহিনীর তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি ড্রোন ব্যবহার করছিলেন।

এক পরিবারের তিনজন নিহত

মধ্য গাজায় পৃথক আরেকটি হামলায় একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন এক ফিলিস্তিনি বাবা, তাঁর ছেলে এবং তাঁদের আরেক স্বজন।

দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরকে গুলি করে হত্যা করেছেন ইসরায়েলি সেনারা।

ইউনিসের পাশে পৃথক আরেকটি হামলায় ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

উত্তর গাজায় ইসরায়েলের হামলায় আরও দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা ওয়াফা।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলেছেন, ইসরায়েল গত বছর ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওই যুদ্ধবিরতি হয়।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে বিবিসি বলেছে, ১০ অক্টোবর থেকে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর গাজায় অন্তত ৪৬৬ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে।

তা ছাড়া ইসরায়েল এখনো গাজায় খাদ্য, চিকিৎসা সহায়তা ও আশ্রয়সামগ্রী প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। ত্রাণ প্রবেশে সীমাবদ্ধতার কারণে গাজায় প্রায় ২২ লাখ মানুষ ঠান্ডা আবহাওয়ায় চরম মানবিক সংকটে রয়েছেন।

‘আন্তর্জাতিক’ : আরও খবর

সম্প্রতি