রাশিয়ার কাছে সংবেদনশীল যন্ত্রপাতি হস্তান্তর ও বছরের পর বছর গোপন তথ্য বিক্রির অভিযোগে বৃহস্পতিবার, (২২ জানুয়ারী ২০২৬) অস্ট্রিয়ার এক সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তার বিচার শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালে প্রকাশ পাওয়া একটি বিস্তৃত তদন্ত মামলার ধারাবাহিকতায় এই বিচার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মামলাটির কেন্দ্রবিন্দু সাবেক গোয়েন্দা এজেন্ট এগিস্তো অট। ভিয়েনা থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। ৬৩ বছর বয়সী অটের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও অস্ট্রিয়ার স্বার্থবিরোধী গুপ্তচরবৃত্তিসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত এ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এএফপি দেখা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অটের কর্মকাণ্ড বন্ধুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে অস্ট্রিয়ার সুনামের জন্য ‘গুরুতর ক্ষতির ঝুঁকি’ তৈরি করেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে অট জার্মানির দেউলিয়া হয়ে যাওয়া পেমেন্ট প্রসেসিং প্রতিষ্ঠান ওয়্যারকার্ডের অস্ট্রীয় নির্বাহী জান মারসালেকের নির্দেশে কাজ করেন। এর বিনিময়ে তিনি মোট ৮০ হাজার ইউরোর বেশি অর্থ গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পলাতক মারসালেকের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে খোঁজ চলছে। তাকে রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবি’র হয়ে কাজ করার সন্দেহ করা হচ্ছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, দোষী সাব্যস্ত হলে অটের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদ- হতে পারে। তথ্য সংগ্রহের জন্য অট নাকি ‘ইউরোপীয় ডেটাবেস’ ব্যবহার করেছিলেন। পাশাপাশি তিনি ইতালি ও ব্রিটেনে ‘সহায়তার অনুরোধ’ পাঠান। এর ফলে ওই দেশগুলো ‘অজান্তেই মস্কোর স্বার্থে কাজ করেছে’ বলে অভিযোগ করেছেন কৌঁসুলিরা।
তাদের অভিযোগ, অট অস্ট্রিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের একাধিক মোবাইল ফোনও হস্তান্তর করেছিলেন।
এর মাধ্যমে ক্রেমলিন হাজার হাজার যোগাযোগ নম্বরের নাগাল পায়। এতে অস্ট্রিয়ায় বসবাসরত ইউক্রেনীয় ও চেচেন শরণার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অট একটি এনক্রিপ্টেড ল্যাপটপও হস্তান্তর করেছিলেন। এতে ‘সুরক্ষিত ইলেকট্রনিক যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত এমন একটি ইলেকট্রনিক নিরাপত্তা হার্ডওয়্যার’ ছিল, যা সর্বসাধারণের কাছে পরিচিত নয়।
অস্ট্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে মস্কো ও পশ্চিম বিশ্বের মধ্যে একটি সেতু হিসেবে নিজেকে বিবেচনা করত।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় রাশিয়ার পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে একাধিক ঘটনা দেশটিকে নাড়া দিয়েছে।
অটকে ২০১৭ সালে অস্ট্রিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। সেই সময় তার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ওঠে। ২০২১ সালে তাকে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য আটক করা হয়।
২০২৪ সালে সরকারি তথ্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে অটের বিচার হয়। তিনি একজন কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক নেতার কাছে তথ্য হস্তান্তর করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে । তবে ২০২৫ সালে তিনি সেই অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস পান।