২৭ বছরে নাসায় নজিরবিহীন ক্যারিয়ারের পর অবসর নিয়েছেন বিশ্বখ্যাত নভোচারী সুনিতা উইলিয়ামস। গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ৬০ বছর বয়সে তার এই অবসরযাত্রা। এখন তার সামনে খুলে গেছে এক নতুন অধ্যায়। যা শুধু ব্যক্তিগত জীবনের জন্য নয়, বরং বিশ্ব মহাকাশ সম্প্রদায়ের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে।
উইলিয়ামস নাসাতে ২৬৮-দিনের স্টারলাইনার মিশনসহ তিনটি মহাকাশযাত্রা শেষে ক্যাপ্টেন এবং এজেন্সির অন্যতম জনপ্রিয় নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। তার নামের পাশে রয়েছে একাধিক রেকর্ড। মোট ৬০৮ দিন মহাকাশে থাকার আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অবস্থান এবং নারী হিসেবে সবচেয়ে বেশি স্পেসওয়াক সময় (৬২ ঘণ্টা ৬ মিনিট)।
উইলিয়ামস ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি নাসার ভবিষ্যৎ মিশন নিয়ে সংবাদ সম্মেলন, বিশেষ বক্তৃতা ও শিক্ষা-প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নিতে চান। মহাকাশ গবেষণা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত ইভেন্টে তার অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের ও তরুণদের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজে লাগতে পারে।
নাসার মিশন ও ভবিষ্যৎ মহাকাশ অভিযানগুলোতে সরাসরি অংশ না নিলেও পরামর্শক হিসেবে সহযোগিতা করতে পারেন।
বিশ্বজুড়ে মহাকাশ অঙ্গনে কাজ করতে আগ্রহীদের জন্য সুনীতা মোটিভেশনাল সেশন, প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও শিক্ষার প্রচারেও অংশ নিতে পারেন।
অনেক বিজ্ঞানী ও নভোচারীর মতো, তিনি ভবিষ্যতে জীবনের অভিজ্ঞতা ভিত্তিক স্মৃতিকথা বা বই প্রকাশ করতে পারেন। মহাকাশচারীদের জীবনের গল্প ও মানসিক প্রস্তুতি নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়ায়।
সূত্রগুলো বলছে, ব্যক্তিগত জীবনে ফিরে তিনি পরিবার, ঘরোয়া জীবন ও সামাজিক কাজেও সময় দিতে চান। বিশেষ করে এমন কোনো কাজ যেখানে তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব শিক্ষার মাধ্যমে পরিবেশিত হতে পারে।
সব মিলিয়ে সুনীতা উইলিয়ামসের অবসর তার ক্যারিয়ারের শেষ নয় বরং নতুন অধ্যায়ের শুরু বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।