যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বোর্ড অব পিস বা ‘শান্তি পর্ষদ’-এর সনদে স্বাক্ষর করেছেন। বৃহস্পতিবার, (২২ জানুয়ারী ২০২৬) সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ৫৬তম বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ফাঁকে এই সনদে তিনি স্বাক্ষর করেন। স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের সঙ্গে একই টেবিলে বাহরাইন ও মরক্কোর নেতারাও ছিলেন। ট্রাম্প ছাড়াও এখন পর্যন্ত আরও ১৯ দেশের নেতারা এতে স্বাক্ষর করেছেন।
স্বাক্ষরের আগে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যা করছি তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি সত্যিই এখানে এসে এটি করতে চেয়েছিলাম। এর চেয়ে ভালো জায়গা আর হতে পারে না।’ এরপর ট্রাম্প একটি কলম হাতে নিয়ে একগুচ্ছ নথিতে স্বাক্ষর করেন। হাসিমুখে সেগুলো ক্যামেরার সামনে তুলে ধরেন তিনি। এরপর জোড়ায় জোড়ায় অন্য বিশ্বনেতারাও এগিয়ে এসে শান্তি সনদে স্বাক্ষর করতে থাকেন।
ডব্লিউইএফের বার্ষিক অধিবেশন উপলক্ষে বর্তমানে শতাধিক দেশের নেতা ও শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা দাভোসে অবস্থান করছেন। এদিন ডব্লিউইএফের এক ফাঁকে শান্তি সনদসংক্রান্ত সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেন, ‘অভিনন্দন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এই সনদ এখন পুরোপুরি কার্যকর হয়েছে। আর শান্তি পর্ষদ এখন একটি আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক সংস্থা।’
যুদ্ধপরবর্তী গাজা পুনর্গঠনের জন্য সম্প্রতি শান্তি পর্ষদ গঠনের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এতে যোগ দেয়ার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে স্থায়ী সদস্য হতে প্রতি দেশকে ১০০ কোটি ডলার দিতে হবে বলে সূত্রের দাবি অনুযায়ী অনেকে প্রতিবেদন করেছেন। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), মিসর, তুরস্ক, বেলারুশ, ইসরায়েল, পাকিস্তানসহ প্রায় ৩৫টি দেশ শান্তি পর্ষদে যোগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
প্রাথমিকভাবে গাজাকে লক্ষ্য করে শান্তি পর্ষদের ঘোষণা দেয়া হলেও পরবর্তীকালে এর লক্ষ্য বিস্তৃত করা হবে। বলা হচ্ছে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের সংঘাত নিরসনে কাজ করবে শান্তি পর্ষদ। অন্যদিকে, ট্রাম্প এটিকে ‘অকেজো’ জাতিসংঘের বিকল্প বলে উল্লেখ করেছেন।
জাতিসংঘের পাঁচটি স্থায়ী সদস্যের মধ্যে এখনও কেউ শান্তি পর্ষদে যোগ দেয়ার কথা নিশ্চিত করেনি। ফ্রান্স সরাসরি জানিয়েছে যে তারা এতে যোগ দেবে না। গতকাল বুধবার রাশিয়া বলেছে, তারা প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, এই মুহূর্তে তারা এতে যোগ দেবে না। অন্যদিকে চীন এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।