ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভার পশ্চিম বান্দুং এলাকায় ভয়াবহ ভূমিধসের পর উদ্ধার অভিযান এখনও চলমান। শনিবার এই ভূমিধসে বহু বাড়ি মাটিচাপা পড়েছে এবং অনেক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। টানা বৃষ্টি ও নড়বড়ে মাটির কারণে উদ্ধারকাজ চালাতে বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবরটি জানিয়েছে।
পাসির লাঙ্গু গ্রামের বাসিন্দা ৩৬ বছর বয়সী দেদি কুর্নিয়াওয়ান বলেন, “সাধারণত কাছের নদীর পানি বাড়লে ছোটখাটো বন্যা হয়। দুর্যোগ বলতে ঐ বন্যার প্রস্তুতি আমরা নিতেই পারি। কিন্ত পাহাড়ী বনাঞ্চল থেকে হঠাৎ করেই ভূমিধস হয়ে আলগা মাটি নেমে আসলো। আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ হয়ে গেল।”
রাতের বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ কিছু সময় বন্ধ ছিল। রোববার,(২৫ জানুয়ারী ২০২৬) সকালে আবার কাজ শুরু হয়। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা সনাতন পদ্ধতিতেই ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছেন। তবে নিখোঁজদের খুঁজতে ড্রোন ও প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাটি এখনও দুর্বল থাকায় ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা নিরাপদ নয়।
পশ্চিম বান্দুংয়ের মেয়র সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এলাকার অবস্থা খুবই শোচনীয়। উদ্ধারকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন।”
এদিকে পশ্চিম জাভার বিভিন্ন এলাকা ও রাজধানী জাকার্তায় বন্যার পানিতে বহু মানুষ উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত বর্ষা মৌসুমে ইন্দোনেশিয়ায় এমন দুর্যোগের ঝুঁকি বেশি থাকে।
গত বছর দেশটির সুমাত্রা অঞ্চলে ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে প্রায় এক হাজার ২০০ মানুষ মারা যান এবং দুই লাখের বেশি মানুষ ঘরছাড়া হন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন উজাড়ের কারণে মাটি দুর্বল হয়ে পড়ছে, ফলে বন্যা ও ভূমিধসের মতো ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
লতি মাসের শুরুতে সিয়াউ দ্বীপে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৬ জন নিহত হন। একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেশটিতে মানুষের জীবন আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।