তীব্র ঠান্ডা আর ভয়াবহ তুষারঝড়ে বিপর্যস্ত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম সুপারপাওয়ার যুক্তরাষ্ট্র। দেশজুড়ে কোল্ড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে ৩০ জনের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপির বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর মেরু থেকে আসা হিমেল বাতাসের প্রভাবে চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটির দুই তৃতীয়াংশ এলাকা পুরু তুষারস্তরের নিচে চাপা পড়েছে। স্কুল ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থতিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সেগুলো খোলা হবে না।
সেই সঙ্গে খুব জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত জনগণকে বাড়ির বাইরে বের নাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ২০ কোটিরও বেশি মানুষের জন্য ‘কোল্ড অ্যালার্ট’ জারি করেছে মার্কিন আবহাওয়া দপ্তর। বিমান চলাচলও স্থগিত করা হয়েছে অধিকাংশ বিমানবন্দরে।
বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর বরাতে জানা গেছে, গত রোববার বিভিন্ন মার্কিন বিমান বন্দরে বাতিল করা হয়েছে ১৭ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট। পরদিন সোমবার ১০ হাজরেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। প্রতিবেদন মতে, করোনা মহামারির পর এই প্রথম ২ দিনে এত বেশিসংখ্যক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।
ঝড়ো আবহাওয়া ও তীব্র ঠাণ্ডার কারণে হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অচল হয়ে পড়েছে অনেকগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। ফলে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে বিদ্যুৎ পরিষেবায়। লাখ লাখ বাড়িঘর বিদ্যুৎবিচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। পাওয়ার আউটেজ ডট কমের তথ্য অনুসারে, সোমবার পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ৬ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি বাড়িঘর বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে।