ভারতের বাইরে প্রাণঘাতী নিপা ভাইসার ছড়ানোর ঝুঁকি কম জানিয়ে ভ্রমণ বা বাণিজ্যে বিধিনিষেধের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ দুইজনের শরীরে প্রাণঘাতী ভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়ার কথা জানানোর কয়েকদিন পর শুক্রবার, (৩০ জানুয়ারী ২০২৬) বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা এ কথা বলেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে পাঠানো এক ইমেইলে এসব তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘের এ সংস্থা।
নয়া দিল্লি নিপার প্রাদুর্ভাবের কথা জানানোর পর হংকং, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, ভিয়েতনামসহ এশীয় অনেক কর্তৃপক্ষই তড়িঘড়ি তাদের বিমানবন্দরগুলোয় স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কড়াকড়ি আনার কথা জানিয়েছিল।
এ ধরনের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা ভারতের আছে উল্লেখ করে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে তারা ‘ওই দুই রোগী থেকে সংক্রমণ আরও ছড়ানোর শঙ্কা কম বলে মনে করছে।’ এখন পর্যন্ত মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ বাড়ার কোনো প্রমাণ নেই,’ ভারতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে জানিয়ে বলেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তবে তারা ভাইরাসটির আরও সংক্রমণের আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়েও দেয়নি; বাদুড়ের মাধ্যমে যা ভারতের কিছু অংশ ও বাংলাদেশে আগেও ছড়াতে দেখা গেছে।
ফলখেকো বাদুড় ও শূকরের মতো প্রাণীর কাছ থেকে আসা এ ভাইরাসে আক্রান্তরা জ্বর ও মস্তিষ্ক প্রদাহজনিত
সমস্যায় ভুগতে পারেন। এতে আক্রান্তদের মৃত্যুহার ৪০-৭৫%, কোনো চিকিৎসাও নেই। প্রতিষেধক হিসেবে টিকা বানানোর কাজ চলছে, কিন্তু সেগুলো এখনও পরীক্ষা পর্যায়ে আসেনি।
সাধারণত আক্রান্ত বাদুড় বা তাদের খাওয়া ফল থেকে এ ভাইরাস মানুষের শরীরে আসে। মানুষ থেকে মানুষে ভাইরাসটি সহজে ছড়ায় না, আক্রান্তের সুদীর্ঘ সংস্পর্শে থাকলেই কেবল অন্য দেহে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যেতে পারে। ভাইরাসটির ছোটখাট প্রাদুর্ভাব আগেও দেখা গেছে, তবে এর কারণে সাধারণ মানুষের ঝুঁকি খুবই কম বলে মত ভাইরাসবিদদের।
ভাইরাসটির সংক্রমণের উৎস এখনও নিপা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা ভাইরাস। ভারতে, বিশেষ করে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালায় প্রায়ই বিচ্ছিন্নভাবে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। কেরালাকে নিপার ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ভাইরাসটি পরিবর্তিত হতে হতে সহজে ছড়াতে পারে এমন ধরনে পরিণত হতে পারে বলে বৈশ্বিক সংস্থাটির আশঙ্কাও আছে।
ডিসেম্বরের শেষদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে যে দুই স্বাস্থ্য কর্মীর দেহে ভাইরাসটির উপস্থিতি মিলেছিল হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা চলছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে সপ্তমবার ভারতে ও তৃতীয়বার পশ্চিমবঙ্গে নিপার প্রাদুর্ভাবের খবর মিলল। এর আগে ২০০১ ও ২০০৭ সালে রাজ্যটিতে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগ ছড়িয়েছিল।