image
ছবিঃ সংগৃহীত

আটক ৫ বছরের শিশু ও তার বাবাকে ছেড়ে দিতে আইসিইর প্রতি মার্কিন বিচারকের নির্দেশ

বিদেশী সংবাদ মাধ্যম

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে অভিবাসনবিরোধী আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই/আইস)’–এর অভিযানে আটক ৫ বছরের শিশু ও তার বাবাকে টেক্সাসের আটককেন্দ্র থেকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। গতকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক ফ্রেড বিয়েরি এমন আদেশ দিয়েছেন।

সম্প্রতি মিনিয়াপোলিস থেকে লিয়াম কোনেহো রামোস নামের ৫ বছর বয়সী শিশু ও তার বাবাকে আটক করেন আইসিইর সদস্যরা। রোববার, (০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) বিচারক বিয়েরি তাঁর রুলে লিয়ামের আটককে অবৈধ বলে উল্লেখ করেন।

ভাইরাল হওয়া এক ছবিতে দেখা গেছে, লিয়ামকে মিনিয়াপোলিসের একটি এলাকা থেকে আইসিই কর্মকর্তারা তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। ওই সময় লিয়ামের মাথায় নীল রঙের হ্যাট ছিল, সঙ্গে একটি ব্যাকপ্যাক। এ ঘটনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া কঠোর অভিবাসননীতির প্রতীক হয়ে উঠেছে।

বিচারক ফ্রেড বিয়েরি রুলে লিখেছেন, শেষ পর্যন্ত আবেদনকারীদের (অভিবাসনের জন্য) যুক্তরাষ্ট্রের জটিল অভিবাসনব্যবস্থার কারণে জোরপূর্বক বা স্বেচ্ছায় নিজেদের দেশে ফিরে যেতে হতে পারে। তবে প্রক্রিয়াটি বর্তমানে যা ঘটছে, সে তুলনায় আরও সুশৃঙ্খল ও মানবিক নীতির মাধ্যমে হওয়া উচিত।

মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে চলমান অভিযানটি এখন পর্যন্ত আইসিইর সবচেয়ে বড় অভিযান। অঙ্গরাজ্যটির মিনিয়াপোলিস শহরে সংস্থাটির প্রায় তিন হাজার সদস্য মোতায়েন আছেন। সেখানে অধিকারকর্মী ও অভিবাসন কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রায়দিনই সংঘর্ষ হচ্ছে। ইতিমধ্যে সেখানে আইসিই সদস্যদের গুলিতে দুই মার্কিন নিহত হয়েছেন।

আইসিইর এমন প্রাণঘাতী অভিযানের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।মিনিয়াপোলিসের কলাম্বিয়া হাইটস স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত মাসে ওই এলাকায় অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে কমপক্ষে চার শিক্ষার্থী আটক হয়েছে। লিয়াম তাদের একজন।

স্কুলের তত্ত্বাবধায়ক জেনা স্টেনভিক বলেছেন, ২০ জানুয়ারি আইসিইর সদস্যরা শিশুটিকে বাড়ির প্রবেশপথে থাকা একটি চলন্ত গাড়ি থেকে বের করে আনেন। পরে তাকে বাড়ির দরজার কাছে নিয়ে যান এবং কড়া নাড়তে বলেন।

স্টেনভিক মনে করেন, পরিবারের অন্য সদস্যদের ধরতে শিশুটিকে ফাঁদ হিসেবে ব্যবহারের কৌশল অবলম্বন করেছেন আইসিইর সদস্যরা।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার তা অস্বীকার করেছে। মার্কিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন বলেছেন, শিশু লিয়ামের সুরক্ষার কথা ভেবে আইসিই সদস্যরা তার সঙ্গে ছিলেন। কারণ, ওই সময় অন্য কর্মকর্তারা তার বাবাকে আটক করায় শিশুটি একা হয়ে পড়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জোরালোভাবে মিনেসোটায় আইসিইর নেওয়া কৌশল সমর্থন করেছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘যদিও এ ধরনের আটকের ঘটনা শিশুদের জন্য পীড়াদায়ক হতে পারে, তবে তার মানে এই নয় যে মা–বাবা হওয়ার কারণে কোনো ব্যক্তি আইনপ্রয়োগকারী বাহিনীর কাছ থেকে দায়মুক্তি পেয়ে যাবেন।’

এর আগে আইনজীবীর বরাতে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, লিয়াম ও তার বাবা ইকুয়েডরের নাগরিক।

দুজনের পক্ষ থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করা হয়েছিল এবং আবেদনকারী হিসেবে তাঁরা দেশটিতে বৈধভাবে ছিলেন। দুজনকেই টেক্সাসের ডিলিতে একটি পারিবারিক আটককেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

‘আন্তর্জাতিক’ : আরও খবর

সম্প্রতি