আইপিএল থেকে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেঁটে ফেলা এবং পরবর্তী সময়ে বিশ্ব ক্রিকেটে সৃষ্ট অস্থিরতা নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন ভারতের লোকসভার সদস্য ও কংগ্রেস নেতা শশী থারুর। মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি ভুল আখ্যা দিয়েছেন।
সোমবার বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
শশী থারুর মনে করেন, কলকাতা নাইট রাইডার্সের চুক্তি থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়া ছিল একটি দুর্ভাগ্যজনক সিদ্ধান্ত। এখানে রাজনীতির সরাসরি প্রভাব ছিল।
থারুর বলেন, ক্রিকেটের মতো একটি খেলা, যা লাখো মানুষের আবেগের সঙ্গে জড়িত, তাকে বিভক্তির মাধ্যম না বানিয়ে মানুষকে একত্র করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা উচিত ছিল।
মোস্তাফিজ ইস্যুকে কেন্দ্র করে পুরো পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে তিনি সতর্ক করেন।
বাংলাদেশি এই পেসারকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানিয়ে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ না খেলার অনড় সিদ্ধান্ত নেয়। আইসিসির পক্ষ থেকে দফায় দফায় চাপের মুখেও বাংলাদেশ তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেনি। ফলে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে ছাড়াই বিশ্বকাপ আয়োজনের পথে হাঁটছে আইসিসি এবং এর পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে আসরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই পুরো বিষয়টিকে খেলাধুলার জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
এদিকে, বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্তের প্রতি সংহতি জানিয়েছে পাকিস্তান। এমনকি আইসিসির ভোটাভুটিতেও তারা একমাত্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নেয়। পাকিস্তান সরকার শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের এই লড়াই না হওয়া মানে আইসিসি এবং সম্প্রচারকারী স্বত্বাধিকারীদের বিশাল অংকের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া।
এটি শুধু সূচির একটি ম্যাচ নয়, বরং পুরো টুর্নামেন্টের আর্থিক ইঞ্জিন। সম্প্রচার স্বত্ব, বিজ্ঞাপন, স্পনসরশিপ এবং বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড মিলিয়ে এই একটি ম্যাচের মূল্য ধরা হয় প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৬ হাজার ১৫০ কোটি টাকার মতো। এই ম্যাচে ১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের দাম সাধারণত ২৫ থেকে ৪০ লাখ রুপি (প্রায় ৩৩ থেকে ৫৩ লাখ টাকা), যা অন্য যেকোনো ম্যাচের তুলনায় বহুগুণ বেশি। শুধু বিজ্ঞাপন থেকেই প্রায় ৩০০ কোটি রুপি (প্রায় ৪০০ কোটি টাকা) আয় হয় বলে ধারণা করা হয়। জানা গেছে, সম্প্রচার স্বত্বাধিকারী জিওস্টার ইতোমধ্যেই সম্ভাব্য ক্ষতির জন্য আইসিসির কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। প্রতিটি বিশ্বকাপ ম্যাচের গড় মূল্য ধরা হয় প্রায় ১৩৮.৭ কোটি রুপি (প্রায় ১৮৩ কোটি টাকা)।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে শশী থারুর আরও বলেন, এখন সময় এসেছে সবার সচেতন হওয়ার। এই অস্থিরতা চিরকাল চলতে পারে না। জরুরি ভিত্তিতে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে এই সংকট সমাধান করা প্রয়োজন। আইসিসি এক্ষেত্রে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হতে পারে।
খেলাধুলার মাঠ থেকে রাজনীতিকে দূরে সরিয়ে রেখে দ্রুত স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেন এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ।
আন্তর্জাতিক: পশ্চিম তীরে বেদুইন সম্প্রদায়কে উচ্ছেদ করছে ইসরায়েল
আন্তর্জাতিক: ইউক্রেনে রাশিয়াকে পরাজিত করতে ব্যর্থ ইউরোপ: মেদভেদেভ
আন্তর্জাতিক: তুরস্কে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যু, আহত ৩০
অর্থ-বাণিজ্য: ১০০ টাকার প্রাইজবন্ডের ড্র
অর্থ-বাণিজ্য: চার মাস পর ডিএসইতে ৭০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন