image

রহস্যময় কুখ্যাত চরিত্র জেফরি এপস্টেইন

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

বিশ্বে ঝড় তোলা বিতর্কিত এক রহসময় চরিত্রের নাম জেফরি এপস্টেইন। ইতিহাসের কুখ্যাত এক যৌন অপরাধী। ওয়াল স্ট্রিটের এক সময়ের প্রভাবশালী ধনকুবের বিনিয়োগকারী হলেও নিজেকে দাবি করেছেন ‘খুনি ও রুটি চোর’ হিসেবে। ২০১৯ সালে মার্কিন কারাগারের ভেতরে তার রহস্যজনক মৃত্যু ঘটলেও ২০২৫-২৬ সালে ‘এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’ অনুমোদনের পর বিশ্বজুড়ে ফের আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছেন।

জেফরি এপস্টেইন, নামটি শুনলেই ক্ষমতা, অর্থ আর অপরাধের এক অন্ধকার জগৎ ভেসে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের এই ধনকুবের অর্থব্যবস্থাপককে ঘিরে যে যৌন নিপীড়ন কেলেঙ্কারি সামনে এসেছে, তা শুধু ব্যক্তিগত অপরাধের গল্প নয়; বরং বৈশ্বিক ক্ষমতাকাঠামোর গভীরে লুকিয়ে থাকা ভয়ংকর বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়।

১৯৫৩ সালে নিউইয়র্কে জন্ম নেওয়া এপস্টেইনের শিক্ষাজীবন ছিল অস্বচ্ছ। কলেজ শেষ না করেও ধীরে ধীরে প্রবেশ করেন উচ্চবিত্ত অর্থনৈতিক মহলে। ওয়াল স্ট্রিটে কাজ করার পর নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন ধনী ও প্রভাবশালীদের সম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়, ঠিক কীভাবে এত দ্রুত অঢেল সম্পদের মালিক হলেন, সেই প্রশ্নের উত্তর পরিষ্কার নয়।

এপস্টেইন প্রথমবারের মতো লাইমলাইটে আসেন ২০০০ দশকের মাঝামাঝি, যখন তার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নিজের বিলাসবহুল বাসভবন ও ব্যক্তিগত দ্বীপে কিশোরীদের নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন চালাতেন। সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই অপরাধ পরিচালিত হতো। সবচেয়ে বিস্ময়কর ছিল- এত গুরুতর অভিযোগ সত্ত্বেও ২০০৮ সালে এপস্টেইন পান অস্বাভাবিক রকমের হালকা সাজা, যা ‘সুইটহার্ট ডিল’ নামে পরিচিত।

সেই চুক্তির পরও এপস্টেইনের প্রভাব এতটুকু কমেনি। রাষ্ট্রনায়ক, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, রাজপরিবারের সদস্য, হলিউড তারকা- এমন বহু বিশ্বখ্যাত ব্যক্তির সঙ্গে তার ওঠাবসার ছবি ও তথ্য সামনে আসে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য পর্যন্ত অনেক নামই ঘুরেফিরে আলোচনায় এসেছে। যদিও সবাই অপরাধে জড়িত ছিলেন কি না তা প্রমাণের বাইরেই থেকে গেছে।

২০১৯ সালে নতুন করে গ্রেপ্তার হওয়ার পর এপস্টেইনের বিরুদ্ধে মানব পাচার ও যৌন নিপীড়নের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। তবে বিচার শুরুর আগেই নিউইয়র্কের একটি কারাগারে তার রহস্যজনক মৃত্যু ঘটে। সরকারি ভাষ্যে এটি আত্মহত্যা বলা হলেও, নিরাপত্তা ত্রুটি, ক্যামেরা বিকল থাকা ও কারারক্ষীদের অসঙ্গত বক্তব্য সন্দেহ আরও ঘনীভূত করে। ফলে এপস্টেইনের মৃত্যু নিজেই হয়ে ওঠে আরেকটি বড় রহস্য।

এপস্টেইন কেলেঙ্কারি শুধু একজন অপরাধীর গল্প নয়। এটি দেখিয়ে দেয়, কীভাবে অর্থ ও ক্ষমতার ছায়ায় অপরাধ দীর্ঘদিন চাপা পড়ে থাকতে পারে। ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পাওয়া, প্রভাবশালীদের জবাবদিহির আওতায় আনা আর বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা- এসব প্রশ্ন আজও রহস্যে ঘেরা।

জেফরি এপস্টেইনের নাম তাই ইতিহাসে থাকবে শুধু একজন যৌন অপরাধী হিসেবে নয়, বরং একটি বৈশ্বিক ক্ষমতার নেটওয়ার্কের প্রতীক হিসেবে, যেখানে সত্য উন্মোচনের লড়াই আজও শেষ হয়নি।

‘আন্তর্জাতিক’ : আরও খবর

» মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়া ভুল ছিল, খেলাধুলাকে রাজনীতিকরণ লজ্জাজনক: শশী থারুর

» মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়া ভুল ছিল, খেলাধুলাকে রাজনীতিকরণ লজ্জাজনক: শশী থারুর

সম্প্রতি