জেফরি এপস্টেইন কেলেঙ্কারির সবচেয়ে ভয়াবহ দিকটি তাঁর অপরাধের ধরন নয়, বরং তাঁর চারপাশে গড়ে ওঠা প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক। যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে প্রকাশিত নথি, ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য, ফ্লাইট লগ আর তদন্ত–সংক্রান্ত কাগজপত্রে এমন অনেক বিখ্যাত নাম উঠে এসেছে, যা বিশ্ব রাজনীতি, রাজপরিবার, ব্যবসা ও সংস্কৃতিজগতকে একযোগে নাড়িয়ে দেয়।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, নথিতে নাম থাকা মানেই অপরাধে জড়িত থাকা প্রমাণিত নয়। অনেক ক্ষেত্রেই সম্পর্ক ছিল সামাজিক, পেশাগত বা পরিচয়ভিত্তিক। তবু প্রশ্ন উঠেছে, এপস্টেইনের মতো একজন সিরিয়াল যৌন অপরাধীর সঙ্গে এত ক্ষমতাবান মানুষ কীভাবে এত ঘনিষ্ঠ ছিলেন?
সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি প্রিন্স অ্যান্ড্রু। ব্রিটিশ রাজপরিবারের এই সদস্যের বিরুদ্ধে এক ভুক্তভোগী সরাসরি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনেন। যদিও প্রিন্স অ্যান্ড্রু অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রে একটি দেওয়ানি মামলার নিষ্পত্তি হয় সমঝোতার মাধ্যমে। বিষয়টি রাজপরিবারের জন্য বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
মার্কিন রাজনীতিতে এপস্টেইনের যোগাযোগ ছিল বিস্তৃত। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন একাধিকবার এপস্টেইনের সঙ্গে ভ্রমণ করেছিলেন- এমন তথ্য ফ্লাইট লগে উঠে আসে। ক্লিনটন শিবির বরাবরই দাবি করেছে, তিনি এপস্টেইনের কোনো অপরাধ সম্পর্কে জানতেন না। কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না।
বর্তমান ও সাবেক ক্ষমতাকেন্দ্রের আরেক পরিচিত নাম ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক অনুষ্ঠানে এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর ছবি ও পরিচয়ের কথা জানা গেলেও, ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন যে তিনি বহু আগেই এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধেও কোনো অপরাধ প্রমাণ হয়নি।
ব্যবসা ও প্রযুক্তি দুনিয়ায় এপস্টেইনের যোগাযোগ ছিল রহস্যজনকভাবে গভীর। বিল গেটসের সঙ্গে তাঁর একাধিক বৈঠকের তথ্য প্রকাশ্যে আসে। যা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, একজন দণ্ডিত যৌন অপরাধীর সঙ্গে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি উদ্যোক্তার কী ধরনের সম্পর্ক ছিল? গেটস পরে স্বীকার করেন, এপস্টেইনের সঙ্গে বৈঠক করা ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। তবে কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এছাড়া নথিতে উঠে এসেছে প্রভাবশালী আইনজীবী অ্যালান ডারশোভিৎস, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, ধনী বিনিয়োগকারী ও একাধিক ইউরোপীয় অভিজাত পরিবারের সদস্যদের নাম। ডারশোভিৎস তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন ও আইনি লড়াই চালিয়েছেন।
এই নামগুলোর উপস্থিতি একটি বড় প্রশ্ন সামনে আনে, এপস্টেইন কি শুধু একজন অপরাধী ছিলেন, নাকি প্রভাবশালীদের ঘিরে গড়ে ওঠা এমন এক ব্যবস্থার অংশ, যেখানে ক্ষমতা অপরাধকে আড়াল করে? অনেক ভুক্তভোগী দাবি করেছেন, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভয়ে বা চাপে তাঁরা দীর্ঘদিন মুখ খুলতে পারেননি।
জেফরি এপস্টেইনের মৃত্যু সেই প্রশ্নগুলোর সব উত্তর পাওয়ার পথ আরও জটিল করে দিয়েছে। ফলে এপস্টেইনের নথিগুলো শুধু অতীতের অপরাধের দলিল নয়, বরং ক্ষমতা, নীরবতা ও বিচারহীনতার এক ভয়ংকর স্মারক।
আন্তর্জাতিক: রহস্যময় কুখ্যাত চরিত্র জেফরি এপস্টেইন
অর্থ-বাণিজ্য: স্বর্ণের ভরিতে বাড়ল ৫৪২৪ টাকা
অর্থ-বাণিজ্য: স্বর্ণের ভরিতে বাড়ল ৫৪২৪ টাকা