গ্রিসের উপকূলে এজিয়ান সাগরে যাত্রীবাহী এক নৌকার সঙ্গে কোস্টগার্ডের এক জাহাজের সংঘর্ষে ১৫ জন অভিবাসন প্রত্যাশী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার এজিয়ান সাগরের হিওস দ্বীপের উপকূলে ঘটনাটি ঘটেছে বলে গ্রিসের কোস্টগার্ড জানিয়েছে। কোস্টগার্ডের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, একটি নৌকা তুরস্কের উপকূল থেকে কয়েক মাইল পশ্চিমে অবস্থিত হিওসে অভিবাসন প্রত্যাশীদের বহন করে নিয়ে আসছে, তারা এমনটি দেখতে পেয়ে সেটিকে ঘুরে ফিরে যেতে বলেন। তিনি বলেন, “কিন্তু মানব পাচারকারীরা কোস্টগার্ডের জাহাজের দিকে নৌকা ছুটিয়ে দিলে সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে।”
কোস্টগার্ড জানিয়েছে, সংঘর্ষের পর তারা ২৫ অভিবাসন প্রত্যাশীকে উদ্ধার করে, কিন্তু পরে তাদের মধ্যে একজন, এক নারী মারা যান। ঘটনার পর একটি তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। রয়টার্স জানায়, কীভাবে সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে তারা স্বতন্ত্রভাবে সেটি যাচাই করতে পারেনি। অভিবাসন প্রত্যাশীদের জাতীয়তাও পরিষ্কার হয়নি।
গ্রিসের এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, নৌকাটিতে ৩০ থেকে ৩৫ জন আরোহী ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। দ্বিতীয় আরেক কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় কোস্টগার্ডের দুই কর্মকর্তা আহত হয়েছেন, তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দক্ষিণপূর্ব কোণের দেশ গ্রিস। এই দেশটি দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপে অভিবাসন প্রত্যাশী মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশীয় শরণার্থীদের অনূকূল প্রবেশপথ। ২০১৫-১৬ সালে গ্রিস ইউরোপের অভিবাসন সংকটের প্রধান ক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল। ওই সময় প্রায় ১০ লাখ অভিবাসন প্রত্যাশী তুরস্ক থেকে সাগর পাড়ি দিয়ে হিওসসহ গ্রিসের বিভিন্ন উপকূলীয় দ্বীপে গিয়ে হাজির হয়েছিল। এরপর থেকে গ্রিস অভিবাসন প্রত্যাশীদের বিষয়ে তাদের অবস্থান কঠোর করেছে। ২০১৯ সাল থেকে দেশটির মধ্যডানপন্থি সরকার কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ও সাগরে টহল বাড়িয়ে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে। তারপর থেকে এই পথে অভিবাসন প্রত্যাশীদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক হ্রাস পেয়েছে। এরমধ্যে উপকূল থেকে অভিবাসন প্রত্যাশীদের জোর করে ফিরিয়ে দেওয়াসহ গ্রিসের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের বেশ কিছু অভিযোগ উঠেছে।
সারাদেশ: চট্টগ্রাম বন্দরে আজও অচলাবস্থা
অপরাধ ও দুর্নীতি: ১৭ মাসে রাজনৈতিক সংঘাতে নিহত ১৯৫: এইচআরএসএস