মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধের মেঘ কাটাতে ওমানের মাসকাটে আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এক হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে বসছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। কাতার, তুরস্ক ও মিশরের মধ্যস্থতায় আয়োজিত এই বৈঠকের ওপর নির্ভর করছে অঞ্চলের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা। তবে আলোচনার টেবিলে বসার আগেই দুই পক্ষ থেকে আসছে চরম হুঁশিয়ারি, যা পুরো বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
আলোচনায় কারা থাকছেন?
মাসকাটে দু’দেশের প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যে জড়ো হতে শুরু করেছেন। এবারের আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। অন্যদিকে, ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। মূলত সংঘাতের পথ পরিহার করে একটি কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য।
প্রস্তাবিত সমঝোতার শর্তসমূহ
আল জাজিরার তথ্যমতে, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো (কাতার, মিশর ও তুরস্ক) উত্তেজনা নিরসনে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোগত প্রস্তাব তুলে ধরেছে। এই প্রস্তাবের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ: ইরানকে পরবর্তী তিন বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে এবং এর মাত্রা ১.৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে হবে।
মজুত স্থানান্তর: ইরানের হাতে থাকা প্রায় ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তৃতীয় কোনো দেশে সরিয়ে নিতে হবে।
ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা আরোপের কথা বলা হয়েছে।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও ইরানের পাল্টা জবাব
আলোচনা শুরুর আগেই উত্তাপ ছড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে সতর্ক করে ট্রাম্প বলেন, "খামেনির চিন্তিত হওয়া উচিত।" বৈঠকে কোনো সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি "আরও ভয়াবহ" হতে পারে বলে সরাসরি হুমকি দিয়েছেন তিনি।
পাল্টা জবাব দিয়েছে তেহরানও। ইরানের সেনাবাহিনী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা যুদ্ধের পক্ষে না থাকলেও যদি তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়, তবে তা মোকাবিলায় তারা পুরোপুরি প্রস্তুত।
সমুদ্রসীমায় উত্তেজনা ও তেলের বাজার
আলোচনার মধ্যেই পারস্য উপসাগরে তেল পাচারের অভিযোগে দুটি বিদেশি জাহাজ জব্দ করেছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড (ওজএঈ)। তবে জাহাজগুলো কোন দেশের, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে, দুই দেশ আলোচনায় বসতে সম্মত হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে।
তুরস্কের অবস্থান
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান জানিয়েছেন, আঙ্কারার মূল লক্ষ্য হলো ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনা যাতে পুরো অঞ্চলকে নতুন কোনো বড় যুদ্ধের দিকে ঠেলে না দেয়, তা নিশ্চিত করা। এখন বিশ্ববাসীর নজর মাসকাটের দিকে সেখানে কি শান্তির সাদা ধোঁয়া দেখা যাবে, নাকি সংঘাতের পথ আরও প্রশস্ত হবে?