রাশিয়ার সঙ্গে বিদ্যমান ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তি নবায়নের পরিবর্তে একটি ‘নতুন, উন্নত ও আধুনিক’ পারমাণবিক চুক্তি করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ট্রুথ সোশালে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, ‘নিউ স্টার্ট’ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি অত্যন্ত খারাপ চুক্তি ছিল এবং এটি নানাভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বদলে আমাদের উচিত পারমাণবিক বিশেষজ্ঞদের দিয়ে একটি নতুন, উন্নত ও আধুনিক চুক্তি তৈরির কাজ শুরু করা, যা দীর্ঘ মেয়াদে কার্যকর থাকতে পারে।”
চুক্তিটির কোনো অস্থায়ী মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, “আমার জানামতে, এই মুহূর্তে এমন কোনো উদ্যোগ নেই।” ট্রাম্প প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ভবিষ্যতে যেকোনো চুক্তিতে তারা চীনকেও অন্তর্ভুক্ত করতে চায়।
এদিকে মস্কো জানিয়েছে, ৫ ফেব্রুয়ারি চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় কোনো পক্ষই আর এর শর্ত মানতে আইনগতভাবে বাধ্য নয়। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, মস্কো পরমাণু স্থিতিশীলতার পক্ষে। এর আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রস্তাব দিয়েছিলেন যে, নতুন কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর আগে অন্তত এক বছরের জন্য বিদ্যমান সীমাগুলো মেনে চলা হোক। তবে রাশিয়ার দাবি, কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এই প্রস্তাবের কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যায়নি।
২০১০ সালের ৮ এপ্রিল চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগে ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল এবং ২০১১ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে এটি কার্যকর হয়। এটি মূলত ১৯৯১ সালের ‘স্টার্ট-১’ চুক্তির স্থলাভিষিক্ত হয়েছিল। এই চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বের শীর্ষ দুই পারমাণবিক শক্তির মোতায়েনকৃত পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা নির্দিষ্ট সীমার (১,৫৫০টি ওয়ারহেড) মধ্যে রাখার বাধ্যবাধকতা ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তিটির অবসানের ফলে গত অর্ধশতাব্দীর মধ্যে প্রথমবারের মতো কোনো আইনি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই পরমাণু প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়ার পথে পা বাড়ালো যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।