আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং হাঙ্গেরির কট্টর ডানপন্থী নেতা ভিক্টর অরবানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাধারণত মার্কিন প্রেসিডেন্টরা অন্য দেশের নির্বাচনে সরাসরি পক্ষ না নিলেও, ট্রাম্প তাঁর চিরাচরিত প্রথা ভেঙে নিজের মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এই ঘোষণা দেন।
জাপানে সানায়ে তাকাইচির ওপর ভরসা ট্রাম্পের
জাপানে আগামী সাধারণ নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে ‘শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান নেতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি লিখেছেন, “তাকাইচি ইতিমধ্যে নিজেকে একজন ক্ষমতাধর নেতা হিসেবে প্রমাণ করেছেন, যিনি সত্যিকার অর্থেই নিজের দেশকে ভালোবাসেন। তিনি জাপানের জনগণকে হতাশ করবেন না।”
সম্প্রতি ট্রাম্পের জাপান সফরের সময় তাকাইচি তাঁকে রাজকীয় অভ্যর্থনা জানান। এমনকি বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’-এর ওপর দাঁড়িয়ে দুই নেতাকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন ‘স্বর্ণযুগ’ ঘোষণা করতে দেখা যায়।
কূটনৈতিক তাৎপর্য:
অর্থনীতি: ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকির মুখে তাকাইচি জাপানি বিনিয়োগ নিশ্চিত করে আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হন।
প্রতিরক্ষা: দুই নেতাই জাপানের প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর পক্ষে একমত।
চীন ইস্যু: তাইওয়ান ইস্যুতে তাকাইচির কঠোর অবস্থান বেইজিংকে চাপে রাখলেও ট্রাম্পের সমর্থন তাঁকে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করছে।
আগামী ১৯ মার্চ হোয়াইট হাউসে তাকাইচিকে স্বাগত জানাবেন বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প।
হাঙ্গেরির অরবানকে ‘অক্লান্ত পরিশ্রমী’র সনদ
অন্যদিকে, ইউরোপের রাজনীতিতে নিজের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের প্রতিও সমর্থন জানিয়েছেন ট্রাম্প। আগামী এপ্রিলে হাঙ্গেরিতে সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
অরবানকে ‘শক্তিশালী ও ক্ষমতাধর’ নেতা আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “তিনি (অরবান) তাঁর মহান দেশ ও মানুষের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। অবৈধ অভিবাসন বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আমাদের দুজনেরই দর্শন এক।”
অরবানের জন্য কেন এই সমর্থন জরুরি?
ভিক্টর অরবান দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকলেও এবারের নির্বাচনে তাঁর দল ‘ফিদেজ’ বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। জনমত জরিপ অনুযায়ী, মধ্য-ডানপন্থী ‘তিসা’ পার্টি অরবানের চেয়ে ৭ পয়েন্টে এগিয়ে আছে। এমন সংকটময় সময়ে ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য সমর্থন হাঙ্গেরির ডানপন্থী ভোটারদের উৎসাহিত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের ‘সমর্থন’ কূটনীতি
মার্কিন প্রেসিডেন্টদের প্রথাগত নিরপেক্ষতা ভেঙে ট্রাম্প এর আগেও আর্জেন্টিনার হাভিয়ের মিলেই এবং হন্ডুরাসের নাসরি আসফুরাকে সমর্থন দিয়েছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প মূলত বিশ্বজুড়ে তাঁর সমমনা রক্ষণশীল ও জাতীয়তাবাদী নেতাদের একটি বলয় তৈরি করতে চাইছেন, যার প্রভাব আগামী দিনগুলোতে ভূ-রাজনীতিতে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।