সৌদি আরবে ৭৩ বছর ধরে মদ পান করা নিষিদ্ধ থাকলেও এবার সে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে। ফলে ধনী, অ-মুসলিম বিদেশি বাসিন্দারা মদ ক্রয় করতে পারছেন। বিশেষ অনুমতি ও উচ্চ আয় দেখিয়ে অনিচ্ছুকভাবে এই নতুন নীতি বাস্তবায়ন করছে বলে দাবি সৌদি আরবের। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
আইন অনুযায়ী, বিদেশি বাসিন্দাদের মদ কেনার জন্য প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি পারমিট থাকা বাধ্যতামূলক (বার্ষিক খরচ ১ লাখ সৌদি রিয়াল) অথবা মাসিক আয় ৫০,০০০ রিয়াল দেখাতে হবে। দোকানে প্রবেশের আগে নিরাপত্তা রক্ষীরা বাসিন্দাদের পরিচয়পত্র যাচাই করবে।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সবাইকে চমকে দিয়ে সৌদি সরকার ঘোষণা দেয়, রাজধানী রিয়াদের কূটনৈতিক এলাকায় বিদেশি কূটনীতিকদের জন্য মদের দোকান খোলা হয়েছে। তখন বলা হয়েছিল, এটি শুধুমাত্র কূটনীতিকদের সুবিধার জন্য। তবে ২০২৫ সালের শেষের দিকে নতুন নিয়মে ধনী ও অ-মুসলিম বিদেশি বাসিন্দারাও বিয়ার, ওয়াইন ও স্পিরিটস কিনতে পারছেন। সাধারণ পর্যটকরা এখনও এই সুযোগ পাচ্ছেন না। অবশ্য কোনও মুসলিম প্রবাসীর কাছে মদ বিক্রি করা হবে না। যারা মদ কিনতে চান তাদের অবশ্যই অমুসলিম হতে হবে। মদের দোকানে গিয়ে প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি কার্ড প্রদর্শনের পাশাপাশি ধর্মীয় পরিচয়ও জানাতে হবে।
ধনী প্রবাসীরা বিবিসিকে জানিয়েছে, দাম ইউরোপের তুলনায় তিনগুণ বেশি, তবে ব্ল্যাক মার্কেটের চেয়ে কম হওয়ায় তারা কিনছেন। পর্যটকরা এখনও দোকানে প্রবেশ করতে পারেন না, তবে ভবিষ্যতে তাদের জন্যও ব্যবস্থা হতে পারে।
১৯৫২ সালে সৌদিতে মদ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে দেশটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে সিনেমা হল চালু করা, বড় সঙ্গীত উৎসব আয়োজন, মহিলাদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেওয়া এবং ধর্মীয় পুলিশের ক্ষমতা হ্রাস করা অন্তর্ভুক্ত। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে সৌদি আরব নিজেকে আরও মধ্যপন্থী এবং বিনিয়োগ-বান্ধব দেশ হিসেবে উপস্থাপন করছে। সমালোচকরা বলছেন, এই পরিবর্তনগুলো দেশের আন্তর্জাতিক চিত্র উন্নত করতে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।