image

ক্ষমতায় নেই দুই নারী, রাজনৈতিক ময়দানে কমছে নারী প্রতিনিধিত্ব: এএফপি

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে সামনের সারিতে থেকে নারীরা বুক চিতিয়ে লড়াই করলেও, ভোটের মূল লড়াইয়ে তারা যেন অনেকটা পিছিয়ে পড়েছেন। প্রায় সাড়ে তিন দশক ধরে দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব নারীদের হাতে থাকলেও চলমান নির্বাচনী প্রেক্ষাপট বলছে ভিন্ন কথা।

রাজপথ কাঁপানো সেই নারী শক্তির উপস্থিতি এখন সংসদীয় রাজনীতির মূল ধারায় অদৃশ্য। এবারের নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের মধ্যে নারী প্রার্থীর হার ৪ শতাংশেরও কম, যা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে পুরুষতান্ত্রিক বলয় আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এএফপির এক বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে যে সরকারই গঠিত হোক না কেন, বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থা সম্ভবত পুরোপুরি পুরুষদের হাতে চলে যাচ্ছে। যেখানে ১৯৯১ সাল থেকে ২০২৪ সালের পটপরিবর্তন পর্যন্ত শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া দেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন, সেখানে বর্তমান শূন্যতা নারী ভোটারদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে।

প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাওয়া আরিয়ানা রহমানের মতো তরুণীদের কণ্ঠে আক্ষেপের সুর। তিনি মনে করেন, শীর্ষে দুজন নারী থাকায় আগে বাংলাদেশের নারীরা অন্তত এক ধরণের প্রতিনিধিত্ব অনুভব করতেন, যা এখন ধূসর হয়ে এসেছে।

পরিসংখ্যান বলছে, এবারের নির্বাচনে ১ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থী মাত্র ৭৬ জন। অধিকাংশ প্রধান রাজনৈতিক দলই পুরুষ প্রার্থীদের প্রাধান্য দিয়েছে। এমনকি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টিও ৩০ জনের মধ্যে মাত্র ২ জন নারীকে মনোনয়ন দিয়েছে।

জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামীর তালিকায় একজনও নারী প্রার্থীর নাম নেই। দলটির পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, সমাজ এখনো নারীদের রাজনীতির জন্য নিরাপদ নয়।

অন্যদিকে, নারী নেতৃত্ব থাকা বামপন্থী দলগুলোর অভিযোগ, পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা ও পরিবারিক প্রভাবের বাইরে গিয়ে যোগ্য নারীদের মূল্যায়ন করার প্রবণতা এখনো গড়ে ওঠেনি।

নির্বাচনী ময়দানে লড়া নারী প্রার্থীদের মতে, সংরক্ষিত ৫০টি আসনের বিধান বরং নারীদের জন্য এক ধরণের অবমাননা। বাম গণতান্ত্রিক জোটের প্রার্থী মনীষা চক্রবর্ত্তীর দাবি, সরাসরি ভোটে না নিয়ে এসে সংরক্ষিত আসনে বসিয়ে দেওয়া মূলত নারীর রাজনৈতিক উপস্থিতিকে কেবলই আনুষ্ঠানিকতায় রূপ দেওয়া।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পারিবারিক উত্তরাধিকারের বাইরে নিজ যোগ্যতায় নারীদের নেতৃত্বে উঠে আসার পথ এখনো কঠিন।

নারী অধিকারকর্মীরা মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কমিশনও নারী প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আশানুরূপ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। ফলে রাজপথের সফল আন্দোলন সত্ত্বেও আগামী দিনগুলোতে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের লড়াইটা আরও কঠিন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

‘আন্তর্জাতিক’ : আরও খবর

সম্প্রতি