image

মার্কিন টেক্সটাইল বাজার দখলে নেবে ভারত, পিছিয়ে বাংলাদেশ

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

যুক্তরাষ্ট্র–ভারত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির সুবিধায় ভারতের টেক্সটাইল ও পোশাক খাত আন্তর্জাতিক বাজারে নিজের অবস্থান শক্ত করতে যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের তুলনায় ভারতের রপ্তানি বেশি সুবিধা পাবে। এমন সতর্কতা এসেছে নতুন বাণিজ্য ব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে।

ভারতের বস্ত্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রথম ধাপে চলতি বছরের মার্চের মাঝামাঝি সময়ে স্বাক্ষরিত হতে পারে এমন এই চুক্তির আওতায় ভারতের প্রায় ৪৪ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি পণ্য মার্কিন বাজারে পারস্পরিক শুল্ক ছাড়াই প্রবেশের সুবিধা পাবে। এতে তৈরি পোশাক ও মেইড-আপ পণ্যের শুল্ক ১৮ শতাংশে নামিয়ে এনে ভারতীয় খাতকে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা প্রদান করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চুক্তিটি কার্যকর হলে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের ১১ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের বৈশ্বিক টেক্সটাইল ও পোশাক আমদানির বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে, যা দেশটিকে বর্তমান প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের তুলনায় একটি বড় সুবিধা দেবে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, এই বিকল্প বাজারে প্রবেশের সুবিধা ভারতকে রপ্তানির ক্ষেত্র আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবে এবং মূল বাজারগুলোর সঙ্গে ভারসাম্য গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামসহ অন্যান্য প্রতিযোগী দেশে টেক্সটাইল ও পোশাক পণ্য আমদানি হলে মানুষিক শুল্কের হার তুলনামূলক বেশি, যা ভারতের সম্ভাব্য সুবিধা আরও তীব্র করে তুলবে। সূত্র বলছে, বর্তমানে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর আছে। যখন এই নতুন ব্যবস্থায় ভারতের জন্য তা কমিয়ে আনা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ গত কয়েক বছর ধরে আমেরিকান বাজারে রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ বৃদ্ধি দেখিয়েছে, বিশেষত তৈরি পোশাক খাতে। ব্র্যান্ড ও ট্রেড ডেটা অনুযায়ী, বাংলাদেশে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণ বাড়িয়েছে, যদিও শুল্ক ও বাজার প্রবেশ বাধা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগও ছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতীয় খাতের ওপর এই সুবিধা যদি বাস্তবে কার্যকর হয়, তাহলে বাংলাদেশকে টেক্সটাইল ও পোশাক রপ্তানিতে মার্কিন বাজারে শেয়ার ধরে রাখা আরো কঠিন হয়ে পড়বে। যদিও বাংলাদেশ আগেই অনেক ক্ষেত্রে সুবিধা পেয়েছে, যেমন কিছু পণ্যের ওপর সুবিধাজনক শুল্ক কাঠামো পাওয়া, তবুও নতুন চুক্তির ফলে ভারতীয় পণ্যগুলোর দাম ও লাভজনকতা বাড়তে পারে, যা আমেরিকান ক্রেতাদের কাছে আকর্ষণ বাড়াবে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, বাজার শেয়ারের এই প্রতিযোগিতা শুধু একটি দেশের ওপর নির্ভর করবে না। বরং শুল্ক কাঠামো, উৎপাদন খরচ, শ্রমশক্তির খরচ ও সরবরাহ শৃঙ্খল দক্ষতার ওপরও নির্ভর করবে। এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে তার অবস্থান ধরে রাখতে নতুন নীতি ও কৌশল গড়তে হবে।

চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর আগামী মার্চের মধ্যেই হওয়ার সম্ভাবনা থাকায়, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার রপ্তানিকারকরা এখন থেকে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে শুরু করেছেন।

‘আন্তর্জাতিক’ : আরও খবর

সম্প্রতি