image

থাইল্যান্ডে আজ ত্রিমুখী লড়াইয়ের সাধারণ নির্বাচন; হচ্ছে নতুন সংবিধানের গণভোটও

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

পূর্ব এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ডে আজ রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুল আলোচিত সাধারণ নির্বাচন। দেশজুড়ে ৫২.৯ মিলিয়নেরও বেশি ভোটার আজ ৫০০ আসনের প্রতিনিধি বেছে নিতে ভোট দিচ্ছেন। তবে এবারের নির্বাচন কেবল নেতা নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; একই দিনে ভোটাররা নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা হবে কি না, সেই প্রশ্নে নিজেদের মতামত জানাতে গণভোটে অংশ নিচ্ছেন।

কেন এই আগাম নির্বাচন?

২০২৩ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর বিজয়ী জনপ্রতিনিধিদের চার বছর দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও মাত্র আড়াই বছরের মাথায় দেশটিতে আবারও ভোট হচ্ছে। মূলত গত এক বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নাটকীয় পটপরিবর্তনই এই আগাম নির্বাচনের মূল কারণ।

১. কম্বোডিয়া সীমান্ত উত্তেজনা: ২০২৫ সালের মে মাসে প্রতিবেশী কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতে এক থাই সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা দেশটিতে তীব্র উত্তজনা সৃষ্টি করে।

২. ফোনালাপ ফাঁস ও সরকারে ভাঙন: জুন ২০২৫-এ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পায়েতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা কম্বোডিয়ার নেতা হুন সেনের সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত ফোনালাপে তাকে আংকেল বলে সম্বোধন করেন এবং নিজ দেশের সামরিক বাহিনীর সমালোচনা করেন। এই অডিও ফাঁস হওয়ার পর জোটসঙ্গী ভুমজাইথাই পার্টি সমর্থন প্রত্যাহার করলে সরকার নড়বড়ে হয়ে যায়।

৩. আদালতের রায়ে প্রধানমন্ত্রিত্ব বাতিল: আগস্ট ২০২৫-এ নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগে সাংবিধানিক আদালত পায়েতোংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে পদচ্যুত করে।

৪. নতুন সরকার ও আগাম নির্বাচনের শর্ত: সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ ভুমজাইথাই পার্টির নেতা অনুতিন চার্নভিরাকুল নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। তবে শর্ত ছিল, তাকে দ্রুত সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন দিতে হবে। সেই শর্ত মেনেই ডিসেম্বরে সংসদ ভেঙে দিয়ে আজকের এই নির্বাচনের পথ উন্মুক্ত করা হয়।

গণভোটের গুরুত্ব

আজকের ভোটে সাধারণ ভোটারদের তিনটি ব্যালট দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে হলুদ রঙের ব্যালটটি হচ্ছে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত। বর্তমানে থাইল্যান্ডে ২০১৭ সালে সামরিক জান্তা সরকারের করা সংবিধান কার্যকর রয়েছে। ভোটাররা যদি এই গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেন, তবেই কেবল বিদ্যমান সংবিধান বদলে নতুন করে সংবিধান লেখার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

মাঠের লড়াইয়ে কারা?

নির্বাচনে মূলত তিনটি পক্ষ তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে:

•পিপলস পার্টি: জনপ্রিয় সংস্কারপন্থী দল যারা জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছে।

•ভুমজাইথাই পার্টি: বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের দল।

•ফিউ থাই পার্টি: সিনাওয়াত্রা পরিবারের সমর্থিত দল।

বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে কোনো একক দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে দেশটিতে ফের জোট সরকার গঠনের জটিলতা দেখা দিতে পারে। আজ সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

‘আন্তর্জাতিক’ : আরও খবর

সম্প্রতি