জাপানের সাধারণ নির্বাচনে ইতিহাস গড়ে বিশাল জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বে দলটি দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এই জয়ের ফলে জাপানের রাজনীতিতে তাকাইচির অবস্থান যেমন শক্তিশালী হলো, তেমনি আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতেও বড় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে-এর তথ্য অনুযায়ী, ৪৬৫ আসনের নিম্নকক্ষে তাকাইচির দল ৩১৬টি আসনে জয়ী হয়েছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ২৩৩টি আসনের চেয়ে যা অনেক বেশি। দুর্নীতি ও ধর্মীয় কেলেঙ্কারির কারণে এলডিপি সাম্প্রতিক সময়ে চাপে থাকলেও, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন মাসের মাথায় আগাম নির্বাচন দিয়ে বাজিমাত করলেন রক্ষণশীল নেত্রী তাকাইচি।
গত ৩৬ বছরের মধ্যে জাপানে এবারই প্রথম শীতকালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। ভারী তুষারপাত ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে অনেক জায়গায় ভোটকেন্দ্র আগে বন্ধ করে দিতে হলেও ভোটারদের উপস্থিতিতে কমতি ছিল না। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় ও তরুণ প্রজন্মের পছন্দের নেত্রী তাকাইচির ব্যক্তিগত ইমেজই এলডিপিকে এই বিশাল জয় এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
জয়ের আভাস পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় সানায়ে তাকাইচি বলেন, "আমরা একটি দায়িত্বশীল ও সক্রিয় আর্থিক নীতির ওপর জোর দিয়েছি। আমাদের অগ্রাধিকার হবে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করা।"
দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় তাকাইচি এখন তাঁর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন, জাপানের শান্তিবাদী সংবিধান সংশোধনের পথে হাঁটতে পারবেন। এর ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে জাপানি সেনাবাহিনীর ওপর থাকা আইনি সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
তাকাইচির এই জয় বেইজিংয়ের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে তাঁর কঠোর অবস্থান এবং জাপানের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির পরিকল্পনাকে চীন যুদ্ধবাজ মনোভাব হিসেবে দেখছে। দ্য এশিয়া গ্রুপের কর্মকর্তা ডেভিড বোলিংয়ের মতে, বেইজিং কোনোভাবেই এই জয়কে স্বাগত জানাবে না।
অন্যদিকে, ফলাফল ঘোষণার আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকাইচিকে অভিনন্দন জানিয়ে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও।
জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন কেইডানরেন-এর প্রধান ইয়োশিনোবু সুৎসুই এই ফলাফলকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের মাধ্যম হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে সমালোচকদের মতে, তাকাইচির ঘোষিত করছাড় ও ভর্তুকির নীতি জাপানের ধীরগতির অর্থনীতিতে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
হোসেই ইউনিভার্সিটির প্রভাষক ক্রেগ মার্ক মনে করেন, এই ভূমিধস জয়ের ফলে তাকাইচি এখন বিরোধী দলগুলোকে কোণঠাসা করে প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি বা রেকর্ড বাজেট পাশের মতো যেকোনো সিদ্ধান্ত অনায়াসেই নিতে পারবেন।
রাজনীতি: ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শঙ্কায় বিএনপি
অর্থ-বাণিজ্য: ফের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে স্থবির চট্টগ্রাম বন্দর